সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে


উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব্যস্ত । বাতাসে এখন হাল্কা হিমেল স্পর্শ , সাথে মনটাও খানিক উড়ুউড়ু ... কার্তিকের মিঠে রোদ গায়ে মেখে ।

মন এখন দ্বিধাহীন
আঙ্গুলের চাপে ফেলে আসা দুপুর ভাঙা আলো
এখন কমলা সূর্যাস্তের সাথে মিঠে আলাপে মগ্ন

এরই মধ্যে পায়ে পায়ে রোদ্দুর পেরিয়ে এলো গোটা দুটি বছর । ২৬ শে মার্চ ২০১৫ য় হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে যে ব্যতিক্রমী গ্রুপের জন্ম হয়েছিল , আজ তার বয়স দু বছর আট মাস । রোদ্দুরের পথচলায় যারা সঙ্গে ছিলেন , আছেন এবং থাকবেন , সকল কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই । আগামী বছর রোদ্দুর পা রাখছে আরও বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে , ডানা মেলছে সাহিত্যের নতুন দিশায় । আশা রাখছি রোদ্দুরের এই নব কর্মক্ষেত্রে একই ভাবে পাশে পাবো আপনাদের ।

ভাল থাকুন সকলে । লেখায় থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে
পিয়ালী বসু


বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

সেপ্টেম্বরের রাত চাদরে এখন পুজোর কাশফুল গন্ধ 
হৃদয়ের  গহীন তম গভীরতা সাঁতরে উঠে আসা মৃৎ-কোলাজ আসন্ন শারদ ছবিতে স্পষ্টই স্পষ্টমান 
বিরহবহমান এই জীবনের একমাত্র আশ্বাস ... এই আনন্দী-কল্যাণ 

স্মৃতিমেদুরতা'কে শৃঙ্খলা রক্ষার ভার দেওয়া যায়না ঠিকই , তবুও মনের গহন তারে মাঝে মাঝেই অনুরণিত হয় চিরাচরিত সেই সুপ্ত খেদটি ... " যদি পারতাম ..." । 

ফেলে আসা সময়ে ফিরে যাওয়া যায়না , বরং অভ্যস্ত হতে হয় বদলাতে থাকা পারিপার্শ্বিকের সাথে । সমতাহীন সমাজে বসবাস করাটা বেশ ক্লান্তিকর , বিশেষত এই সময়টা , যখন বৃহত্তর আনন্দ উৎসবের সামিল হওয়ার দাবী হিসেবে ধর্ম ' এসে পড়ে মাঝে । মনের নিভৃত অলিন্দ জুড়ে দ্যোতিত হতে থাকে ... " সব উৎসবই হোক ধর্মের বন্ধনমুক্ত " । 

 শোষণ - বঞ্চনাহীন সমাজের স্বপ্ন দেখাটা বেশ অলীক , তবুও ... এই হুজুগে বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ । ভিন্ন এবং আপাত বিপ্রতীপ সম্পর্কগুলিকে একসূত্রে বাঁধার সেই বৃহত্তর উৎসব ... দুর্গাপুজো । 

'মুঠো ভরা রোদ্দুর ' র শারদ সংখ্যা সেজে উঠেছে ভিন্ন স্বাদের একাধিক লেখা নিয়ে । পুজোর দিনগুলিতে অবসর যাপনের মাঝে, একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন নব্য কবি - লেখকদের এই নবতর প্রয়াসগুলিতে , ... নিরাশ হবেন না কোনভাবেই একথা বলতে পারি ।  

সকলকে শরত-হেমন্তের হার্দিক শুভেচ্ছা।   পুজো ভাল কাটুক ।  

শুভেচ্ছান্তে 
পিয়ালী বসু 







বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
এমন দিনে মন খোলা যায় "
ষড়ঋতুর বর্ণিল বৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলার প্রকৃতি ও মানব মন ।এর মধ্যে আষাঢ় -শ্রাবণ মাস , তথা বর্ষা আমাদের শিল্প সাহিত্যে এবং মননে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে আছে ।
বর্ষার আবেদনের চির সুধাময় রূপটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথই বেশী অনুভব করেছিলেন । সে প্রমাণ তাঁর বর্ষা পর্যায়ের গান ও কবিতাগুচ্ছ । ১৩১৭ সালে , এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় আশ্রমের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান- , “আজ এই ঘনবর্ষার সন্ধ্যায় প্রকৃতির শ্রাবণ-অন্ধকারের ভাষা আমাদের ভাষার সঙ্গে মিলতে চাইছে। অব্যক্ত আজ ব্যক্তের সঙ্গে লীলা করবে বলে আমাদের দ্বারে এসে আঘাত করছে।'-- তাঁর এ বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট , বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সাহিত্য , বিশেষত কবিতার কি লীলায়িত যোগ !
" এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা
গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন-ভরসা
দুলিছে পবন সনসন বনবীথিকা
গীতময় তরুলতিকা "
রবীন্দ্রনাথের হৃদয়জুড়ে বর্ষা এভাবেই শিল্প সুষমায় মণ্ডিত হয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিল , সে প্রমাণ তাঁর 'বর্ষামঙ্গল' কাব্য । 
বর্ষার চরিত্র বা সৌন্দর্যের যে বহুগামী বৈচিত্র্য তা অন্য পাঁচটি ঋতু থেকে স্বতন্ত্র, আর এই স্বাতন্ত্রবোধের জন্যই বর্ষা ' থিম হিসেবে বাংলা সাহিত্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত । মধ্যযুগীয় কবি জয়দেবের 'গীত গোবিন্দম ' বা বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ' এমনকি পরবর্তী কালে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, খনার বচন, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, স্বর্ণকুমারী দেবী, অক্ষয়কুমার বড়াল, প্রমথনাথ চৌধুরী ...সকলের লেখাতেই মূল থিম হিসেবে বারম্বার বর্ষা ' এসেছে ।
বর্ষা যেমন প্রেমের ঋতু , ভালবাসার ঋতু , তেমনই বর্ষা বিরহের ঋতুও । বৈষ্ণব পদাবলীর অধিকাংশ পদ আমাদের একথা বার বার মনে পড়িয়ে দেয় । মৈথিল কবি বিদ্যাপতি যখন লেখেন --
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ বাদর
শূন্য মন্দির মোর "
তখন সেই বুক ফাটা আক্ষেপ , সেই দীর্ণ বক্ষ চেরা যন্ত্রণা , আমাদেরও হৃদয় ছুঁয়ে যায় ।
আষাঢ় - শ্রাবণ মানেই ভালবাসার ঋতুকাল , ... এ প্রসঙ্গে কালিদাসের মেঘদুতম -এর কথা ভোলা যায় কি ? বিরহী যক্ষ উজ্জয়িনীর প্রাসাদ শিখরে বসে মেঘকে দূত করে পাঠিয়েছিলেন অলকা পুরীতে তাঁর প্রিয়তমার কাছে । কালিদাসের 'মেঘদুতম' এ  বিরহী যক্ষের সেই আর্তি কি আমাদেরও হৃদয় স্পর্শ করে অমর হয়ে ওঠেনি ?
বিষাদের কবি , সুররিয়ালিজমের পূজারী জীবনানন্দ দাশের কবিতায়ও বর্ষা'র থিম ব্যবহৃত হয়েছে , ব্যবহৃত হয়েছে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের লেখাতেও । 
বর্ষা ভালবাসার ঋতু ...বর্ষা প্রেমের ঋতু ।
মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র এবারের সংখ্যায়  রয়েছে  একাধিক ভিন্নধর্মী  লেখা । প্রতিটি লেখাই স্ব- মহিমায় উজ্জ্বল।
বর্ষার অনুপম মাধুরীতে হৃদয় সিক্ত করে ভাল থাকুন সকলে
পিয়ালী বসু
ডাবলিন
আয়ারল্যান্ড



শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

" ক্ষত যত ক্ষতি যত মিছে হতে মিছে,
নিমেষের কুশাঙ্কুর পড়ে রবে নীচে
কী হল না, কী পেলে না, কে তব শোধে নি দেনা
সে সকলই মরীচিকা মিলাইবে পিছে
সত্যের আনন্দরূপ ... এই তো জাগিছে "
১৩৩৩ সালের ৯ই অগ্রহায়ণে রচিত পূজা ' পর্বের অন্তর্গত এই গানটি কি আশ্চর্য ভাবে প্রাসঙ্গিক আজকের দিনে । কবির কোন আত্মরক্ষা নেই , একথাটা আরও নিদারুণ ভাবে প্রকট সাম্প্রতিক কালে ঘটা নিন্দনীয় দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ।
কবিতা ব্যক্তি মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব থেকে সৃষ্ট হলেও পরবর্তীতে তা সর্বজনীন হয়ে ওঠে পাঠক মননের ভাবনা অলিন্দ বেয়ে ... কবি আদতে অভিমন্যু , ... তাঁর এক এবং একমাত্র লক্ষ শব্দের মধ্যস্থতায় সমকালীনতাকে তুলে ধরা ।
মন্দাক্রান্তা বা শ্রীজাত ... যিনিই হন না কেন , তাঁদের একমাত্র পরিচয় , তাঁরা কবি , এবং তাঁরা মৃত্যুঞ্জয় ।
বছর ঘোরে ... চৈত্রের অবসান হয় , আবাহন ঘটে বৈশাখের । চলতে থাকে ঋতুর ঘূর্ণিচক্র । অনন্ত সময় চরাচরে , আস্তে আস্তে আবছা হতে থাকে বসন্তের দীর্ঘতর ছায়াশরীরটি ।
কিন্তু , ... যাবো বললেই কি যাওয়া যায় ? অনন্ত চরাচর জুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে ... " যেতে নাহি দিব ... " ।
তবুও যেতে দিতেই হয় , ... পুরনো কে আঁকড়ে ধরে বাঁচা যায়না , যায়না এগিয়ে চলাও , ... রিক্ততার আভরণ ঘুচিয়ে মহান রাজসিক বৈশাখ কে স্বাগত জানাতেই হয় ।
পা রাখতে হয় ১৪২৪ এর স্বপ্ন সরণিতে ।
নতুন বছরের এই শুভ লগ্নে প্রার্থনা হোক এটুকুই ... অধর্ম আর হীনতার মুখোশ ছেড়ে আমরা যেন সত্যিই মানুষ ' হয়ে উঠি ... মানব ধর্মের সাথে মেলাতে হবে যুগধর্ম'কেও ... একমাত্র সেই আলোকিত প্রত্যাশাটুকুই থাকুক ...
" মানুষ বড় কাঁদছে ,তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও
মানুষই ফাঁদ পাতছে ,তুমি পাখির মত পাশে দাঁড়াও
মানুষ বড় একলা ,তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও ... "
কোমল আলোকে আলোকিত হোক চারপাশের ঘনঘোর আঁধার , .আলোয় থাকুন সকলে ... ভালোয় থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে ,

পিয়ালী বসু

শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

'বসন্ত তার গান লিখে যায়
ধূলির পরে’ -----
রবীন্দ্রনাথের নিজের এই কথা থেকেই স্পষ্ট , প্রেমিক বসন্ত তার প্রেমের গান লিখে চলে মধুর এ পৃথিবীর বুকে ... অবারিত গুঞ্জনে ।
আকাশে বাতাসে এখন ফাগুনিয়া আলাপ ... জ্যোৎস্নাধারায় এখন ঝর্ণার মিলন কলতান ... দৈনন্দিন জীবনের অমানিশা ভেদ করে আকাশে বাতাসে এখন ’ঋতুরাজ বসন্তের রঙ-বিলাস ।
' আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে,
এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়,
সখীর হৃদয় কুসুম-কোমল--
কার অনাদরে আজি ঝরে যায়।
কেন কাছে আস, কেন মিছে হাস,
কাছে যে আসিত সে তো আসিতে না চায় '
১২৯৫ এর অঘ্রাণে রচিত , এ গানটি স্থান পায় মায়ার খেলা ' তেও ... রবীন্দ্রনাথ তখন দার্জিলিঙে ... পাহাড়ে সমতলে সদ্য উন্মোচিত আম্র-মুকুলের বসন্ত ঘ্রাণ কবির মনন থেকে এ গানে সঞ্চারিত ।
বসন্ত ' যেমন প্রেমের ঋতু , তেমনই বসন্ত বিরহেরও ঋতু ...
'সুখে আছে যারা, সুখে থাক্‌ তারা,
সুখের বসন্ত সুখে হোক সারা,
দুখিনী নারীর নয়নের নীর
সুখী জনে যেন দেখিতে না পায় '
আর এই বসন্তেই কাজি নজরুলের কলমে উদ্ভাসিত নারী'র জগৎ-মোহিনী রূপটিরও ...
'আমি নারী, আমি মহীয়সী,
আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোৎস্নাবীণায় নিদ্রাবিহীন শশী।
আমি নইলে মিথ্যা হত সন্ধ্যাতারা-ওঠা,
মিথ্যা হত কাননে ফুল-ফোটা'
এরই মাঝে ২৬ শে মার্চ রোদ্দুর ' পা রাখলো দ্বিতীয় বর্ষে ... দীর্ঘ চব্বিশটি মাস রোদ্দুরের পাশে যারা ছিলেন , আছেন এবং থাকবেন ... সকল কে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ।
কলমের মধ্যস্থতায় উন্মীলিত হোক ... সাহিত্যের নবতম অলিন্দটি ।
শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু


মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

" আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে " 

দেখতে দেখতে আমরা পেরিয়ে এলাম নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসটিও। দেনা পাওনার হিসেব নিকেশ নিয়ে বসলে , প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি দুয়ের বোঝাই নিক্তি মেপে ওজন করা যাবে , ... অথচ বৃহত্তর জীবনবোধের প্রেক্ষাপটে যদি আসা আর যাওয়ার এই ছবিটি তুলে ধরা যায় , সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের কথাই প্রথম মনে পড়ে ।

এ মাসেই আমরা পেরিয়ে এলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটিও ,  ১৯৫২ সালের এই দিন , বাংলাকে ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে আজও চিহ্নিত। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। ... ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া , হাজার বীর শহিদদের স্মরণ করে একবার ফিরে দেখা যাক বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসটিকে ... কারণ গদ্যই আমাদের ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গণ্য । ১৫৫৫ সালে অহোমরাজকে রাজা নরনারায়ণ মল্লদেবের লেখা চিঠিটিই কিন্তু বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন হিসেবে আজও চিহ্নিত ।

তথাপি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১৮৫২ সালে সালটিই বিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে , ...ঐ বছরই প্রকাশিত হয়   হানা ক্যাথরিন মুলেনস  রচিত 'ফুলমণি ও করুণার বৃত্তান্ত'  , যা বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত । পরপরই প্রকাশিত হয় , বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল , লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র । 

আর এখন সময়ের বহমানতায় আমরা শূন্য দশকের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছি । সময়ের ব্যবধানে - শতকের ব্যবধানে ভাষার বিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ার মতো । 

বাংলা ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে প্রকাশিত হল , মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র ফেব্রুয়ারী সংখ্যা । মাতৃভাষাকে সযত্নে পরিচর্যার পাশাপাশি একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন , অনন্য স্বাদে সেজে ওঠা এই বিশেষ সংখ্যাটিতে , আশা রাখছি নিরাশ হবেন না ।
ভাল থাকুন নিরন্তর , লেখায় থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু





শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

নতুন বছরের প্রথম মাসের মাঝামাঝি ... চিন্তন এবং মননের মেঘমল্লারে এখন বাঙ্গালীর দ্বিতীয় দুর্গোৎসবের ভাবনা-জাল ... ১৯৭৬ সালের ৩রা মার্চ বিড়লা তারামণ্ডলের উল্টোদিকে ছোট মাঠটিতে মাত্র ৫৪ টি স্টল নিয়ে যে মেলা শুরু হয়েছিলো ,  আজ সময়ের বহমানতায় সে মেলা আন্তর্জাতিক মিলন ক্ষেত্রে পরিণত ।১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক বইমেলার স্বীকৃতি অর্জন করা এই মেলা আদতে শিক্ষিত বাঙ্গালীর আঁতের মিলনক্ষেত্র ।
বইমেলার এই আলোকিত উচ্ছ্বাসের মাঝেই ২৩ শে এবং ২৬ শে জানুয়ারী ছুঁয়ে গেল ক্যালেন্ডারের পাতা । সোশ্যাল নেটওয়ার্কের হুজুগে মাতা বাঙ্গালী এই দুদিনের জন্য পালটালেন প্রোফাইল পিকচার , শুনলেন কিছু দেশাত্মবোধক গান ... এমনকি দু এক ছত্র লিখেও ফেললেন , ... কিন্তু তাতে করে কি বদলালো মন ... বা মনন ? এর মধ্যেই প্রকাশিত হল 'মুঠো ভরা রোদ্দুর 'এর জানুয়ারী সংখ্যা ... ভিন্ন ধাঁচের একাধিক লেখায় সেজে উঠেছে এবারের ব্লগ । বইমেলার ধুলো ঘেঁটে বাড়ি ফেরার পর ... সময় করে নাহয় একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন । আমাদের সমগ্র লেখক -কবি -পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। এভাবেই পাশে থাকবেন আজীবন , এই ভরসায় ...

শব্দের সমাধি প্রান্ত থেকে মোম গলিয়ে পড়া স্মৃতি বুকে জড়িয়ে
অমৃতের ছোঁয়ায়... লেখা হোক ক্রিমসন বা কপার কোরাল কবিতা
ভাল থাকুন সকলে । 
শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু


শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

ডিসেম্বর ।
বছরের শেষ মাস । আরও একবার সময় কে সাক্ষী রেখে সূর্য প্রদক্ষিণের জন্য তৈরি আমরা ।
সুখ-দুঃখ , আনন্দ-বেদনা'র এস্রাজে জীবন কে বাজিয়ে নেওয়া আরও একবার ।
২০১৬ আমাদের দিয়েছে অনেককিছুই , তেমনই কেড়েও নিয়েছে অনেক নক্ষত্র'কে । বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক বহু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব থেকে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের লড়াইয়ে সহায়তার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ৯০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা ফিদেল কাস্ত্র ।
ডিসেম্বর ।
বিজয়ের মাস । অগণিত সাধারণ মানুষ ও অমর শহিদ সেনাদের আমৃত্যু লড়াইয়ের মধ্যস্থতায় অর্জিত স্বাধীনতার সাক্ষর হিসেবে চিহ্নিত বিজয়ের মাস বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে ।
ডিসেম্বর।
এ মাসের ৭ই পৌষ নিয়ম মেনে শান্তিনিকেতনে শুরু হবে পৌষমেলা। শান্তিনিকেতনের অন্যতম Cult Culture বাউল গানের মধ্যস্থতায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রবর্তিত পৌষ উৎসব' কে আরও একবার সরাসরি দেখে নেওয়া যাবে ।

মুঠো ভরা রোদ্দুর 'এর ডিসেম্বর সংখ্যা সেজে উঠেছে ভিন্ন স্বাদের ৩০ টি লেখা নিয়ে । বর্ষশেষের রাঙা আলোয় নতুন বছর কে স্বাগত জানানোর প্রাক্কালে , সময় নিয়ে একবার পড়ে দেখুন অনন্য লেখাগুলি ।

সকলের জন্য রইল নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা ।
মোহ ফসফরাস মেখে দীপ্ত হয়ে উঠুন আগামী'তে । ভাল থাকুন ।
শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু



শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

(১)
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক

(২)
দাদখানি চাল, মুসুরির ডাল, চিনি-পাতা দৈ,
দু’টা পাকা বেল, সরিষার তেল, ডিম-ভরা কৈ।’
পথে হেঁটে চলি, মনে মনে বলি, পাছে হয় ভুল;
ভুল যদি হয়, মা তবে নিশ্চয়, ছিঁড়ে দেবে চুল
অথবা
(৩)
আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর,
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন সুদূর
মনে পড়ে কি প্রখ্যাত এই ছড়া তিনটির কথা ?
প্রথমটি রবীন্দ্রনাথের , দ্বিতীয়টি ছড়ার জাদুকর যোগীন্দ্রনাথ সরকারের লেখা এবং দ্বিতীয়টি সুকুমার রায়ের ।
বাংলা শিশু সাহিত্যের উৎপত্তি ও ইতিহাস ঘাঁটলে এমন হাজারো মনিমুক্তোর সন্ধান মিলবে । বাংলা ভাষায় শিশুসাহিত্যের গোড়াপত্তন হয় ১৮১৮ সালে, কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটির তরফ থেকে প্রকাশিত নীতিকথা বিষয়ক বইয়ের মাধ্যমে ।
শিশুসাহিত্যের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, স্বর্ণকুমারী দেবী প্রমুখের রচনার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের বোধোদয় (১৮৫১), কথামালা (১৮৫৬), চরিতাবলী (১৮৫৬), আখ্যানমঞ্জরী (১৮৬৩), বর্ণপরিচয় (১৮৮৫); অক্ষয়কুমারের চারুপাঠ (৩ খন্ড, ১৮৫৫-৫৯); মদনমোহনের শিশুশিক্ষা (৩ ভাগ, ১৮৫০-৫৫) এবং স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত বালক' পত্রিকার উল্লেখ করা যায় ।
তৃতীয় পর্যায় রবীন্দ্রযুগ। রবীন্দ্রপূর্বযুগের শিশুসাহিত্য মুখ্যত জ্ঞানমূলক, উপদেশমূলক ও নীতিকথামূলক; কিন্তু রবীন্দ্রযুগের শিশুসাহিত্য মুখ্যত আনন্দমূলক। সুদীর্ঘ সময়ব্যাপী রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসাধনায় শিশুরা উপেক্ষিত হয়নি; তাঁর শিশু (১৯০৬) কাব্যগ্রন্থেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে সমকালীন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায়, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার, কাজী নজরুল ইসলাম, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের নামও উল্লেখযোগ্য। হেমেন্দ্রপ্রসাদের আষাঢ়ে গল্প (১৯০১), যোগীন্দ্রনাথ সরকারের হাসিরাশি (১৯০২), দক্ষিণারঞ্জনের ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৮), আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ভূত পেতনী (১৩০৯), উপেন্দ্রকিশোরের টুনটুনির বই (১৯১০), সুখলতা রাও-এর গল্পের বই (১৯১৩), সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল (১৯২৩), পাগলা দাশু, অবাক জলপান, নজরুল ইসলামের ঝিঙে ফুল (১৯২৬)
বাংলার শিশুসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে নিজস্ব স্বকীয়তায় ।
উনবিংশ শতাব্দীতে ছাপাখানার প্রবর্তনের পরেই সম্ভবত শিশু সাহিত্যের অবিরত জোয়ারে ভাঁটার টান প্রথম পরিলক্ষিত হয় । মদনমোহন তর্কালঙ্কার মহাশয়ের -- " বারোমাস সাতবার
আসে যায় বার বার " ভোলা যায় কি ?
কিন্তু তারপর ? কোথায় গেল সেইসব শিশু সাহিত্য ? কিই বা হল তাদের ?
খুব স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে অবহেলিত পর্যায়ভুক্ত এখন শিশুসাহিত্য' , মনে করে দেখুন তো , সাম্প্রতিক কালে শিশুদের ( ৬-১০ বছর বয়সী) কিছু লেখা হয়েছে কি তেমন ?
এ মাসেই দেশজুড়ে পালিত হবে ' শিশুদিবস' , অথচ কেউ কি সেভাবে ভাববেন সাহিত্যের আঙিনা জুড়ে কিভাবে ব্যপ্ত করা যায় শিশুমনের নিখাত সরল মনটির ছবি ?
উত্তর টা বেশ নিরাশাজনক , একথা মেনে নিয়েই মুঠো ভরা রোদ্দুর 'এর এবারের সংখ্যায় রইল শিশুমনের খোরাক জোটানোর জন্য কিছু মিষ্টি ছড়া -, সঙ্গে রইল কবিতা , ফিচার ও গল্পের চিরাচরিত মিশেল । আশা রাখি পাঠকদের ভাল লাগবে কিছুটা আউট অফ দ্য বক্স' এই সংখ্যা ।
নিরন্তর ভাল থাকুন সবাই , ... সর্বোপরি , লেখায় থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে 
পিয়ালী বসু


বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬

"The beauty of all literature. You discover that your longings are universal longings, that you're not lonely and isolated from anyone. You belong.” ― F. Scott Fitzgerald

'সাহিত্য' অর্থাৎ 'সহিতের সহিত ভাব বা মিলন ' { বাংলা অ্যাকাডেমি অভিধান জানুয়ারী, ২০১৪) - আমাদের অন্তর্নিহিত চেতনাবোধের চিন্তন প্রথম আক্রান্ত হয় সাহিত্যের নানা ধারা'র অনুভবের ভিত্তিতে , ... সুপ্ত চিন্তনের সার্বজনীন প্রতিফলন অবশ্যই সাহিত্যের প্রধান সংজ্ঞা
একটি উদাহরণ দেওয়া যাক - সোফোক্লিসের ‘ইডিপাস রেক্স’ আমাদের অনুভব অলিন্দের গোপন দুয়ার শুধু আন্দোলিতই করেনা - বরং তা আমাদের সার্বিক বিশ্বাসবোধ কেও আন্দোলিত করে তোলে - ফলত জীবন দর্শনের এক অভাবনীয় দৃশ্যপট উন্মিলিত হয় আমাদের সামনে , সাহিত্য' আমাদের নিয়ে যায় সেই 'ইউটোপিয়ান' দুনিয়ায় , যেখানে আমাদের বাস্তব অনুভব পৌঁছতে অক্ষম ।
মানুষের জীবন একটি সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক সত্তা-- তার অসংখ্য দিক ও বিভাগ এবং অগণিত দিকপ্রান্ত রয়েছ - অপরিমেয় কার্যকারণ মানব জীবনে প্রতিনিয়তই কর্মরত... 'সাহিত্য' এই পর্যায়েরই একটি বিষয় মাত্র।

খুব সহজ ভাষায় বললে ,--- মানবিক অনুভূতির ভাষাগত রূপায়ণকেই ' সাহিত্য' নামে অভিষিক্ত । আবেগ ও চেতনাকে সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক শব্দ বিন্যাসের মধ্যস্থতায় সার্বজনীন পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেওয়াই 'সাহিত্য' --- ফলে সাহিত্য' যেমন বক্তৃতা ও ভাষণরূপে প্রকাশিত হতে পারে, তেমনই গদ্য ও কবিতার ছন্দময় পরিচ্ছদেও উপস্থাপিত হতে পারে।
'মুঠো ভরা রোদ্দুর 'এর এবারের সংখ্যায় রইল গদ্য ও কবিতার একাধিক সাহিত্য-মিশেল' । চিন্তন ও চেতনের সার্বিক স্পন্দন এই সাহিত্যে সভায় সম্পৃক্ত । আসন্ন কালিপুজো ও ভাইফোঁটা'র আগাম শুভেচ্ছা সমেত সাহিত্যের চেতনা রসে নিজেকে সিক্ত করার অভিপ্রায় থাকুক ... এই কামনাও রইল ।

শুভেচ্ছান্তে
পিয়ালী বসু


শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

" এসেছে শরৎ হিমের পরশ লেগেছে হাওয়ার পরে
সকাল বেলায় ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা ধরে "
আকাশে বাতাসে এখন স্পষ্টতই 'পুজো পুজো গন্ধ' , ... কুমোরটুলিতে শিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে , অন্যদিকে সাহিত্য পাড়ায় চূড়ান্ত ব্যস্ততা লেখক-শিল্পী ও সম্পাদকদের , ... পুজোসংখ্যার সলতে পাকানোর সূচনা আজকাল অনেক আগে থেকেই । চার ছেলেমেয়ে সহযোগে কাশ ফুলের গন্ধ মেখে মা দুর্গা এই এলেন বলে ... 
 সম্ভবত পঞ্চদশ শতাব্দী তে প্রথম দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়, এও জানা যায় দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জমিদার সম্প্রদায়ই প্রথম এই পূজার সূত্রপাত করেন, আবার কারোর কারোর মতে নদীয়া জেলার ভবানন্দ মজুমদারের উদ্যোগেই প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু হয় ১৬০৬ বঙ্গাব্দে।
আমাদের বাঙালীদের প্রধান এই উৎসবের সঠিক উৎস নিয়ে নানাবিধ মতান্তর থাকলেও এটুকু আমরা সবাই জানি যে ১০৮ টি নীল পদ্ম এবং ১০৮ টি দীপ জ্বালিয়ে প্রথম এই পূজার সূচনা করেন বহুলকথিত রামচন্দ্র, দেবীর অকালবোধন এর মাধ্যমেই সম্ববত দুর্গা আমাদের জানান দিয়ে দেন যে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ধরাধামে আবির্ভূতা হয়েছেন তিনি, আর আমরা মেরুদণ্ডহীন (ধর্মভীরু ) মানুষ তাঁকে আশ্রয় করেই বেঁচে আছি এই বিশ্বাস নিয়ে যে একদিন সব অন্যায়ের, সব অবিচারের প্রতিশোধ নেবেন তিনি।
অন্যায় আর অরাজকতার এই কালসময়ের কালো ক্যানভাসটিকে কিছুদিনের জন্য নাহয় সরিয়ে রাখা যাক , আমরা বরং মনোনিবেশ করি বৃহত্তম শারদ উৎসবটির দিকে ।

মুঠো ভরা রোদ্দুর 'এর শারদ সংখ্যায় থাকলো নানা ফ্লেভারে সাজানো একাধিক ভিন্ন স্বাদের লেখা , শারদ শুভেচ্ছা আদান প্রদানের মাঝে কিছুটা সময় নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন লেখাগুলি । 'মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র সমস্ত লেখক -কবি , পাঠকমণ্ডলী ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই  শারদ শুভেচ্ছা । পুজো কাটুক আনন্দে - হর্ষে - পুলকে । 

শুভেচ্ছান্তে
পিয়ালী বসু




Show More React

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

“A good editor is like tinsel to a Christmas Tree...they add the perfect amount of sparkle without being gaudy.” 
― Bobbi Romans


হাজারটি লেখার মধ্যে থেকে সেরা লেখাগুলিকে নির্বাচন করাই সম্পাদকের কাজ । আর এ কাজটি সত্যিই বড়ই দুরূহ ও কঠিন ।

ছোটবেলা থেকেই মনের কোণে একটি সুপ্ত স্বপ্ন প্রায়শই উঁকি মেরে যেতো । বাবা সে সময়ে 'আগামী' নামে ছোটদের একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন । বাবা কে দেখতাম রাত জেগে এডিটিং করতে । আরও পরে আমাদেরই প্রকাশনা সংস্থায় বাবার তত্বাবধানে 'এডিটিং' এবং 'প্রুফ রিডিং ' শেখা আমার ... ২৬ শে মার্চ ২০১৫ ... 'রোদ্দুর ' সৃষ্টির জন্ম লগ্ন থেকেই লেখা নির্বাচনের দায়িত্বে থেকে বুঝেছি প্রচুর লেখার মধ্যে থেকে Cream of the Lot গুলি কে বাছা সত্যিই খুব কঠিন । প্রত্যেক লেখাই সেই কবি বা লেখকের নিজস্ব মননজাত ভাবনা এবং তা একান্তই আপন , তবুও পাঠকের কাছে লেখক বা কবির কিছু দায়বদ্ধতা থাকে বৈকি ! 

অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন ব্লগ স্পটের নাম 'মুঠো ভরা রোদ্দুর ' কেন ? 

 মুঠোয় করে 'রোদ্দুর ' এর কিছু সেরা লেখা নিয়েই তৈরি এই ব্লগ স্পট , আর তাই ... 'মুঠো ভরা রোদ্দুর '

আগামী সংখ্যায় আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোর রোশনাই, প্রতিমার সাজসজ্জা এবং মণ্ডপের অলংকরণ সহ  নিয়ে আসা যাবে আরও কিছু সেরা লেখা । ততদিন পর্যন্ত ... সৃজনে থাকুন এবং সর্বোপরি ভাল থাকুন । 

শুভেচ্ছান্তে 
পিয়ালী বসু 






শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে





" এমন দিনে তারে বলা যায় 
এমন ঘনঘোর বরিষায় 
এমন দিনে মন খোলা যায় " 

ছটি ঋতুর বর্ণিল বৈচিত্রে ভরপুর বাংলার প্রকৃতি ও মানবমন । এর মধ্যে আষাঢ় - শ্রাবণ এই দুই মাস আমাদের শিল্প , সাহিত্য এবং মননে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে আছে । 
বর্ষার আবেদনের চির সুধাময় রূপটি রবীন্দ্রনাথই সবচেয়ে বেশী করে অনুভব করেছিলেন , তার প্রমাণ তাঁর 'বর্ষামঙ্গল' কাব্য ।  ১৩১৭ সালে , এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় আশ্রমের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান- , “আজ এই ঘনবর্ষার সন্ধ্যায় প্রকৃতির শ্রাবণ-অন্ধকারের ভাষা আমাদের ভাষার সঙ্গে মিলতে চাইছে। অব্যক্ত আজ ব্যক্তের সঙ্গে লীলা করবে বলে আমাদের দ্বারে এসে আঘাত করছে।'-- তাঁর এ বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট , বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সাহিত্য , বিশেষত কবিতার কি লীলায়িত যোগ !

বর্ষার সৌন্দর্যের বহুগামী বৈচিত্রময় রূপটির জন্যই যুগে যুগে এই বর্ষাকাল প্রেম এবং বিরহের থিম হিসেবে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে ।এ প্রসঙ্গে কালিদাসের মেঘদুতম -এর কথা ভোলা যায় কি ? বিরহী যক্ষ উজ্জয়িনীর প্রাসাদ শিখরে বসে মেঘকে দূত করে পাঠিয়েছিলেন অলকা পুরীতে তাঁর প্রিয়তমার কাছে । কালিদাসের 'মেঘদুতম' এ  বিরহী যক্ষের সেই আর্তি কি আমাদেরও হৃদয় স্পর্শ করে অমর হয়ে ওঠেনি ?  মধ্যযুগীয় কবি জয়দেবের 'গীতগোবিন্দম ' বা বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ' অথবা আরও পরবর্তী কালে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী , ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত , স্বর্ণকুমারী দেবী , প্রমথনাথ চৌধুরী থেকে উত্তর আধুনিক কালের সুররিয়ালিজমের কবি জীবনানন্দ দাস , ...প্রত্যেকের লেখাতেই ফিরে ফিরে এসেছে এই বর্ষা । 

মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র এবারের সংখ্যায় রয়েছে একাধিক কবিতা , চিঠি , ফিচার এবং অণুগল্প , প্রতিটিই আঙ্গিক , শব্দ এবং বাক্যের অনায়াস মাধুকরী তে অনন্য । বর্ষার অনুপম মাধুরীতে হৃদয় সিক্ত করে সৃজনে থাকুন সকলে , ...এবং ভাল থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে 
পিয়ালী বসু 

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

 সত্তর দশকের শুরু । 
সমাজবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল বেল (Danial Bell) এবং আলা তুরে (Alain Tauraine) নতুন এক যুক্তি  স্দেথাপন করেন । তাঁরা জানান , মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সমাজ সৃষ্টি হয়েছে। যাকে উত্তর শিল্প সমাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়। উত্তর শিল্প সমাজের ভিত্তি হচ্ছে তথ্য ও জ্ঞান। এই সমাজে প্রস্তুত শিল্পের অবক্ষয় ঘটে। মূলধনের মালিক বা শিল্পপতিদের স্থান অধিকার করে নেয় পেশাভিত্তিক ব্যবস্থাপক এবং এই  ধারাবাহিকতায় শিক্ষার বিস্তার ঘটে। এভাবেই ক্রমশ উত্তর শিল্পযুগের ধারণা থেকে তৈরী হয় উত্তরাধিকতার ধারণা। অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন- আমরা নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছি, যাকে উত্তর আধুনিক যুগ বা   Post modern age বলা যায়।
উত্তর আধুনিকতা বা পোস্ট মডার্ন ইজমের ধারণাটি কখনো স্থির নয়, কোনো যুক্তির ঐক্যতে স্বীকার করাও পোস্টমডার্ন ইজমের কাজ নয়। একই ঐক্যের দিকে সম ধারায় সম্মিলন পোস্ট মর্ডার্ননিজমে ব্যক্তির ইচ্ছা, স্বাধীনতা, ঐতিহ্য, বিচার ক্ষমতা, সার্বজনীনতা, আন্তর্জাতিকতা এবং মূল্যবোধ একই অবস্থান থেকে অক্ষুন্ন থাকে। পোস্টমডার্ন ইজম কোনো সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে না। পোস্টমডার্ন ইজম প্রতিটি ভাবনার মধ্যে বৈচিত্র্যের মালা পড়িয়ে দেয়া আর প্রতিটি চিন্তার মধ্যে এনে দেয়া অভিনবত্বের ছোঁয়া। এর প্রতিটি দর্শন অসীমের প্রান্তপর্যন্ত প্রসারিত। এটি সময় বিভাজনে বিশ্বাসী নয় আবার সময়ের স্তর পেরিয়ে ও এর যাত্রা শুরু হয় না। ধারণাটি অবশ্যই  প্রয়োগিক এবং বৈচিত্র্য সন্ধানী। 
তাহলে ইদানিং কালে বহু ব্যবহৃত ও বহুচর্চিত উত্তর আধুনিক বা পুনরাধুনিক কবিতা ঠিক কেমন ? 
পোস্টমর্ডান কবিতায় যুক্তি কাঠামো অনুক্রম অনুপস্থিত থাকবে। কবিতাটি close ended  অথবা Open ended যেমনই হোক না কেন  , কবিতাটি শেষ হলেও মনে হবে তা শেষ হয়নি, অর্থাৎ একটা never ending সুর থাকবে । পোস্টমর্ডান কবিতা বহুরৈখিক, বহুকৌণিক, বহুত্ববাদী ও বিদিশাময়। এর যে কোনো দিকে ছড়িয়ে পড়ার অভিমুখ খোলা থাকে। 
ঠিক এইখানে একটা কথা বলবার আছে। আমরা বলবো যে আমাদের মাঝেই কোনো কোনো মানুষের সেই ক্ষমতা থাকে যারা একক জীবনের ধাক্কায় জন্ম নেয়া ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে মানুষের মুখের কথায় লিখে রেখে যেতে পারেন, তাঁদেরই আমরা 'কবি' আখ্যা দিই । কবি হলেন আনন্দময় নৈরাশ্যবাদী অর্থাৎ an ecstatic pessimist , বিশাল এই ভূখণ্ড টায় যা যা বিরাজ করছে তার প্রতি অদ্ভুত সচেতনতা এবং দুঃখবোধ , দুঃখবোধ কারণ কবি রা যা দেখতে চান আদতে বাস্তবটা তেমন নয় আর তাই যন্ত্রণা তাই কষ্ট তাই নৈরাশ্য। কিন্তু who is a poet? এর উত্তরটা পাওয়া গেল কি ? A poet is one who writes verses/ and theone who doesnt write verses/ a poet is one who throws off fetters/and one who puts fetters on himself/herself/ a poet is one who believes/ and one who doesnt believe.... অর্থাৎ ইতি ও নেতি র দ্বন্দ্বে প্রতিনিয়ত যিনি খণ্ডিত হন তিনিই কবি । a poet is one who tries to leave / and one who cannot leave.. কবি র কাজ সময় কে মুহূর্তে বেঁধে রাখেন a poet is one who knows how to froze time ..কবি তিনিই যিনি স্মৃতি বেদনা কে শৃঙ্খলা রক্ষার ভার দেন না কোনোমতেই , তিনি জানেন it cannot exist yet it exists..আসলে নির্মাণ আর ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যেমন চলে জীবন , তেমনই প্রতিবাদ জন্ত্রনা আর তীব্র দীপ্তি র উজ্জল্যে প্রতিমুহূর্তে নির্মিত হন কবি !
মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র এবারের সংখ্যায় রয়েছে একাধিক কবিতা , চিঠি , ফিচার এবং অণুগল্প , প্রতিটিই আঙ্গিক , শব্দ এবং বাক্যের অনায়াস মাধুকরী তে অনন্য । পাঠকরা সঙ্গে থাকুন এবং ভাল থাকুন  । 

শুভেচ্ছান্তে , 
পিয়ালী বসু 



রবিবার, ১ মে, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে






রাত্রি খসে পড়বার আগে এই যে পাললিক সমুদ্রস্নান, রৌদ্রকথন,
তার ভেতরে তোমার স্মৃতি-বিস্মৃতির লাবণ্যগুলি ঝলমল করে উঠছে।
পরিব্রাজকের মতো হালকা পোশাকে
হেঁটে যেতে যেতে তিমিরগহনে যে ক্রন্দনধ্বনি তুলেছিলে, তার মিহি সুর আমার
হৃৎপিণ্ড চিরে চিরে ঝরিয়ে দিচ্ছে সুপ্রভা, স্রোত, বৃষ্টিদাহ্য স্নিগ্ধ জাহাজের ডানায় চড়ে
উড়ে চলেছি নিজেরি সমাধিপ্রান্তরে " 
- মে মাসে পা দিলাম আমরা । নতুন বছরের প্রথম চারটি মাস কেটে গেল দৈনন্দিন ভাল মন্দের হিসেব মিলিয়ে । ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা সচরাচর মে দিবস নামে বিশ্বের সর্বত্রই  উদযাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠন সমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১লা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারি ভাবে পালিত হয়।
সময় বহমান । দিন প্রতিদিন মাস বছর কাটিয়ে সময়ের হাত ধরে আমরা এভাবেই পার করে ফেলি দশক । শরীরের প্রাণবন্ত যাপনচিত্র নিয়ম মাফিক ফিকে হতে থাকে সময়ের ঘনঘোর আঁচে " কি যেন বলার ছিল ? " সময়াভাবে আর বলা হয়ে ওঠেনা সেই সব কথা , থেকে যায় তারা অব্যক্ত হয়ে , আর "আপন মনের মাধুরী মিশায়ে " কবি/ সাহিত্যিক রচনা করেন তাঁদের সৃষ্টি -- 'সাহিত্য' নামে যা সমগ্র পাঠককূলের কাছে পরিচিত । পরিযায়ীর পাখির ঠোঁটে লেগে থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন সময়ের আদুরে চাবি । এই আকালের দিনেও অক্ষরের পর অক্ষর জুড়ে সৃষ্ট হয় সাহিত্য । 
সকলের জন্য রইল অশেষ শুভকামনা । পাশে থাকুন আর প্রতিনিয়ত সৃজনশীল লেখার মধ্যস্থতায় আলোকিত করুন রোদ্দুরের আঙ্গিনা -- Because magic still happens in the enchanting chambers .

শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু 






শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

"এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক
ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক" 


নতুন দিন'পঞ্জিকা শুরু । 
ষড় ঋতুর চাকায় আরও এক বছরের আবর্তন শেষে পুনরায় বৈশাখের আগমন । সমাগত নববর্ষ , সমাগত ২৫ শে বৈশাখ । এ মাস তাই উৎসবের মাস । এ মাস তাই নবীন বরণের মাস । বৈশাখের প্রথম প্রত্যূষে আকাশ প্রাঙ্গনের সমস্ত কালিমা , সমস্ত 'কু' এর বিনাশ ।  নবীন আলোর প্রথম সুরে , আবির্ভাব  'সু'এর । 

"নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন
            বর্ষ হয় গত!
      আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন
            করিলাম নত।
বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও,
      ক্ষমা করো আজিকার মতো
               পুরাতন বরষের সাথে
               পুরাতন অপরাধ যত"


উৎসবের এই আলোকোজ্জ্বল ঝর্ণাধারায় স্নান করেই রোদ্দুর' পা রাখলো এক বছরে । এই একটি বছর নানা গুণী মানুষের কলমে ঋদ্ধ হয়েছে রোদ্দুর 'এর প্ল্যাটফর্ম , প্রাণিত হয়েছে মুঠো ভরা রোদ্দুর' ।  প্রত্যেক কে আন্তরিক ধন্যবাদ 

সেল'ফোনে বাজতে থাকুক অবিরত সুর তরঙ্গ 
 অবিরল কথামালায় ভার্চুয়াল ইন্টারাকশন 
 সময়ে অসময়ে রঙ্গিন কাগজ কেটে সাজগোজ 
 ,নক্সাকাটা কংক্রিটের রাজপথে ,ইটের দেয়ালে কিম্বা 
পাথুরে মেঝেয় আকা হরেক আল্পনা । 
গাছঘেরা একচিলতে নাগরিক ছায়াস্থানে 
গ্রামের আদলে বসা মেলার রেপ্লিকা 


সকলের জন্য রইল নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা । সাথে থাকুন । পাশে থাকুন । 

শুভেচ্ছান্তে , 
পিয়ালী বসু 







শনিবার, ৫ মার্চ, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

" ফুল ফুটুক আর  নাই ফুটুক আজ বসন্ত

শীত শেষ । 
ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। দিনান্তের সমস্ত কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন  প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। তাই কবির ভাষায়- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত ।"  মৃদুমন্দ আদুরে  বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসমান চির-প্রেমিক বাঙ্গালী । বসন্তের শিমুল রঙা রঙে নিজেকে সাজিয়েই সমাগত ৮ই মার্চ -- আন্তর্জাতিক নারী দিবস । বিশ্ব জুড়ে সেদিন পালন করা হবে নারী দিবস , স্বীকার করা হবে নারী- পুরুষের সমানাধিকারের কথা , কিন্তু আদপে কি সত্যিই তাই ? ২০১৪ র পরিসংখ্যান জানাচ্ছে , কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী গোষ্ঠীর শতাংশ মাত্র ৪০ % , -- ১৯৫৭ সালের ৮ই মার্চ নিউইয়র্কের সেলাই কারখানার মহিলা শ্রমিক রা রাস্তায় নামেন , সমানাধিকারের দাবীতে । সেই দিনটি থেকে নারীর জেহাদ শুরু , যা আজও চলমান , Bacause , Women are the real architects of our society .
                    


শুভেচ্ছান্তে , 
পিয়ালী বসু 


সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...