রবিবার, ১ মে, ২০১৬

দেজ্যাঁ-ভু ~ সুদীপ্তা নাথ

এই যে তুমি নেই।
এন্ড্রয়েডের প্রশ্রয়ে নেই আদুরে ছোঁয়াচ।
ঘুমভাঙা চোখে তুমি আর খোঁজো না আমায়।
আমিও ব্যস্ততার আড়ালে তোমাকে ঢাকি
*
কথারা ঝরে যায়।
শুধু তার ছায়াগুলো থেকে যায়।
মিরর ইমেজে ঢেকে যায়, 
প্রিয় ল্যাম্পশেড।
*
আমার-তোমার না হওয়া প্রেম,
কোনো এক টাইমফ্রেমে সুখে ঘর করে।
শুধু আমি তুমি আমাদের আলাদা পথচলায়,
হঠাৎই ফিরে পাই অচেনা দেজ্যাঁ- ভ্যু 

আরণ্যক , হিমঋতু এবং কিছু শব্দ ~ রিক্তা চক্রবর্তী

বহু ওঠা পড়া আজ শেষ তবে 
অকারণ মেঘ রঙের এই বসন্ত , এই তুচ্ছ অজুহাত 
আজ শেষ তবে
*
খরস্রোতার ঝিরি আশ্বাস , রাত গভীরে নদীর শব্দ
অশরীরী নরদেহ 
আজ শেষ তবে 
*
হৃদয়ের নিবিড় আরণ্যক সমাধি, হিমঋতু 
এই রাধিকা বাতাস 
আজ শেষ তবে 
*
দিগন্ত নীল মেঘলা খাম, রাত্রিচুড়ার বিপন্ন ভুল 
আজ শেষ তবে
*
আজ শেষ তবে, শেষ বারের মতো 
হৃদয় প্লাবন সেসব স্মৃতি , অকাল শ্রাবণ , 
বৃষ্টি ভাসী , শহরতলী 

বিরহ ~ অরিজিৎ বাগচী

ভাষার ছন্দে ও সংলাপের কারুকার্যে, কবিতা এসেছে বারংবার
 এ হাতের সমতলে 
কিন্তু আমি তো কবিতা বুঝিনা
বুঝিনি অক্ষরের সমষ্টির কোলাহল
ভাষার জন্মের প্রাক্কালে
শব্দের দাপট শুনেছ কি কেউও?
সে তো ছিল কেবল ইশারায় ইস্তক
তবুও 
জীবন টা হয়ত আমার হাতে স্পর্শকাতর বেশী 

তাই বিরহে লিখেই হালকা হই 
বিপির ম্যানুয়াল আমার পেনসিলের ডগায় 
ভদ্রতার মেডিসিন আমি খাই না

তুমি ~ রঘুনাথ মণ্ডল

কোথায় তুমি ?
কেমন আছো ?
যেখানে রোদ উঠলে ভয়ে কুঁকড়ে যায় শ্রমিক,
চাল না থাকা হাঁড়ির ঝংকার শব্দে কেঁপে উঠে পরিবার,
বৃষ্টির অভাবে কেঁদে উঠে কৃষক,
ট্রেনে উঠলেই অনেক ভিখারী হাত পাতে,
খামচে ধরে ইস্ত্রি করা প্যান্ট,
রাস্তায় শুধু দুঃখী মানুষরা আমার বন্ধু, আত্মীয়,
তাকে ভুল করেও এমন প্রশ্ন করতে নেই

ঝড় ~ সিক্তা দাস

যে কোনো ঝড় এলেই আমি সামলে নেবো ঠিক,এমন-ই ভেবেছি এতকাল।
.
চাষীর মতো খরাভূমিতেও নামমাত্র ফসল ফলিয়ে চলেছি। সেই ফসল ঘরে তোলার সময় আমি আবার ঝড়ের আঁচ পাচ্ছি। মন্দ নয়। অদৃশ্য, অথচ এক সম্ভাব্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি। এক নতুন কাজ হয়েছে আমার । সম্ভাব্য শূন্যতাকে আত্মস্থ করবার মতো একটা বীজের অঙ্কুরোদ্গমও হচ্ছে যেন্। পাশে একটা বৃদ্ধ বটগাছ বহুদিন ধরে ছায়া জুগিয়ে যাচ্ছে।সেও এই খেলার পরোক্ষ সামিল হচ্ছে, ছায়া জুগিয়েই চলেছে।
.
আসলে আমার সামনে লক্ষ্য একটাই... একটা ছোট্ট ধানের গোলা, সে গোলার গায়ে একটু সোনা রোদ লাগবে, উঠোনের কোণের মাধবীলতা, নয়নতারা, আর জুঁইগাছে আবার কয়েকটা ফুল ফুটবে।কলের জল পড়বে একটু বেশী শব্দ করে...ছরছর...ছরছর। সেই সবুজ স্বপ্নটাই চাগিয়ে তুলছে আমায় বারবার...সেখানে সব কিছু অরণ্য-সবুজ।
.
প্রতিদিন সন্ধেবেলায় মায়ের ছবির কাছে একটা মোমবাতি জ্বালাই।মোমবাতির আলো কাছেই পড়ার ছোটো কাঠের টেবিলটায় আশ্রয় খোঁজে।গ্রীষ্মের সন্ধেবেলার একটা উষ্ণ দমকা হাওয়াও মোমের আলোকে নেভায় না।তারও শীতল হওয়ার খিদে...!! ঝড়-ঝাপ্টার মধ্যেও এরকম কিছু টুকরো ভালোলাগায় নিত্য অবগাহন আমার।
.
যে কোনো ঝড় এলেই আমি সামলে নেবো ঠিক?
.
সেই চেনা ঝড়ের সাথে আমার নিত্য লড়াই- নিত্য চ্যালেঞ্জ। মুঠি দৃঢ় হয়, দৃষ্টি প্রখর হয়। বহমান জীবনের অবসন্নতাকেও লুটিয়ে দিচ্ছি বারবার।
.
কিন্তু যখন ঝড়ের অভিমুখ ঘুরে যায় অন্য দিকে,আচম্বিতে!!!... আমার সমস্ত কথন তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠে।তীক্ষ্ণ ফলার মতো তার ধুলো-হাওয়া আমায় বিঁধে দিয়ে যায়।আমার আত্মনিমগ্নতা ছিন্ন হয়। এতোদিনের একটা সংগ্রামী প্রচ্ছদ, যা আমি তিলে তিলে তৈরী করেছি আমার নিজস্ব অনুসঙ্গ দিয়ে,--যার বুকে দুরবর্তী এক স্নিগ্ধ ছবি অপেক্ষমান, ছিন্ন হয়ে যেতে চায় সেই প্রচ্ছদ... বেইমান কুঁজো ঝড়ের শেয়ালী চতুরতায় ; তার চরিত্র লুটোপুটি খায়...
প্রকৃত ঝড়ের রাজকীয় রূপ এক লহমায় ধ্বংস হয়।
তবু আমার ক্ষতবিক্ষত প্রচ্ছদকে আগলে রাখি আবার...ছবি মুছে গেলেও, আবার একটা ট্রেসিং পেপারের সন্ধান করি, আবার...এবং আবার। নিজেকে ঝেড়ে-মুছে নিই সম্ভাব্য কোনো সুস্থ ঝড়ের অপেক্ষায়...

সুদূরে কোনো সিঁদুর-পরা মহানক্ষত্র তাকিয়ে থাকে...

স্বার্থ দ্বন্দ্ব ~ অজয় বৈদ্য অন্তর

কতো কথা মনে ভাবি
আঁধার কালো রঙিণ চাবি।
সুখ অর্থ সম্পদের লাগি
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ভাগাভাগি।
°
যতো প্রেম ছিলো মনে
বিবাদিলো পিতা পুত্র সনে।
চিরশত্রু আঁধার ঘনে
পিষ্টে কাতর কতো জন বনে।
°
অর্থ দ্বন্ধ স্বার্থের খেলা
এসব ভাবিতে কাটে তার বেলা।
ভাবিত যদি একদিন হবে একেলা
রক্তারক্তিতে হতো না আর মেলা

কদর ~ জয়তী ভট্টাচার্য অধিকারী

অভিমান, তুই ফিরে যা নিজের ঘরে
আকাশের বুকে মেঘেদের আনাগোনা,
মুখ বদলায় প্রেমের মালিকানা
আশ্বাস, তোকে ভরসা হয় না আর
চোরাবালি বুকে দাঁড়িয়ে আছিস তুই
ইচ্ছে করে আঙুল বাড়িয়ে ছুঁই
ইচ্ছে, তোর ডানা জোড়া মেলে দে
নীলের বিষে জ্বলে যাক তোর বুক
তবুও চাইবি শেষ চোখে চোখ সুখ?
কষ্ট, আজ তুই আমার দোসর
কেউই তোকে চায় না পেতে কাছে
শুধু আমার কাছেই তোর ভালোবাসা আছে

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...