শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

প্রয়াণ - বিলকিস বি পলি

সুখটা ঘুমিয়ে পড়ে 
অসুখের কোলে
শিরায় শিরায় বয়ে চলা
উত্তপ্ত লাভা
স্তিমিত হয়ে পড়ে হঠাৎ
ধুকপুক করা হৃদস্পন্দন
থেমে যায় মুহূর্তেই
একটি অবুঝ শিশু
ক্যান্সার নামক ব্যাধি
জীবনের পরিসমাপ্তি অবেলায়

ফিরে এসো - জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী

যেখানে মেঘের পরে আকাশের বাড়ি
অচেনা হাতের সাথে চোখের কোলাজ 
সে যুবক ফিরে যাক ...নক্ষত্র ঝরেছে আবেশে
সুরঞ্জনা ...ঘাসের বুকে ফিরে এসো আজ 

ফিরে এসো ফুল হয়ে ঢেউ আর পাখির মিছিলে 
হৃদয় পেতেছে মাঠ ...আকাশের চিঠি হয়ে এসো
ও যুবক কতটুকু চিনেছে তোমায় দূর থেকে
দেরি হোক তবুও যেন আমাকেই শুধু ভালোবেসো 

কথা বলো হাসো আর মন থেকে মন উড়ে চলে 
আমারও হাজার কথা জমে থাকে শিশিরের গায়ে -
মাটি হয়ে শুয়ে আছো কোথাও বুকের কাছাকাছি
তার প্রেম ঘাস হয়ে চুমে গেছে ওই দুটি পায়ে

সুরঞ্জনা ...
হৃদয়ের রঙ যেন একাকার সবুজে ও ঘাসে
তোমার দিব্যি করে বাতাসও ছুঁয়েছি ভালোবেসে
আকাশ পেরিয়ে আজ আকাশের আরো কাছে এসে

হ্যালোজেন শুদ্ধতা - রাহুল গাঙ্গুলী

ভিসুভিয়াস : অবদমিত চলার লক্ষ্যে
প্লীজ।গোটা শরীরের ক্লিভেজ্
আদপে শরীরগুলো : ভিতু ফোটনপিন্ড 
দিব্যি : আমাদের পূর্বপুরুষ।উত্তরপুরুষ
হেতলার বনবাস : গরম জওয়ানি
এই ব্যাসার্ধে : বুলেট থমকায়
ট্রিগারের আলতা চাপ
জারভর্তি জারণ শূন্যতা জারি

ওফঃ।টানটান শিড়দাড়া।খাড়াই স্নায়ু
হিটার ইঙ্গিত : আত্মঘাতী ভগ্নাংশ

আর্তি - সঞ্জয় সিনহা

নিরন্তর আমার আকাশ মেঘ করে আছে
তুমি স্নিগ্ধতা আমার মেঘলা বিকেল,
কোথায় যাবে তুমি আমায় ছেড়ে!

আবেশ লিপ্ত তুমি স্পর্শ তোমার রাঙ্গা উদ্ভাসে,
নিবিড় না হোক স্পৃষ্টতায় উত্তাল শ্বাস, 
দোলাচল ধমনী বেয়ে আকাশ বুঝেছে!
যেও না গো তুমি দূরের আকাশ
অদেখার ভীড়ে আমায় একলা করে!

পাপের কুহেলিকা - ডালিয়া অবস্থি

দূরন্ত গতিতে ছুটছে ট্রেন জঙ্গলের মাঝে। রাত নামতেই মাথার ওপরের লাইটগুলো নিভছে।দুলুনি ঘুমের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু ।নির্ধারিত সময়ের দুই ঘন্টা দেরিতে ট্রেন।সকলের নাক থেকে বিভিন্ন ঘরানার রাগপ্রধান সুর বাজছে।আমার পঞ্চইন্দ্রিয় সজাগ।বড় ভুল কলকাতা যাওয়ার পরিকল্পনা করে,এটাই অনিবার্য।

একটা সম্পর্কের জাহাজ আজ দিক নির্ণয়ের ভুলে নিরেট হিমবাহের সাথে ধাক্কা খেয়ে চূর্ণবিচূর্ন।স্বামী, সংসার ফেলে ছুটছি মরিচীকার মোহে।বরফ শীতল অপরাধবোধে শকুনের মত অভিশাপ দিচ্ছি।সব কিছু আয়ত্তের বাইরে।ঈশ্বরের শরনাপন্ন আমি, উচ্চারিত হচ্ছে সকলের মঙ্গল কামনা।নিজেকে পঙ্গু বলে মেনে নিয়েছি,বাকি জীবনটা ক্র‍্যাচে ভর দিয়ে চলার।

কর্তব্য - রীনা রায়

'নির্ধারিত' সময়ের় দুঘন্টা পর 'ট্রেন' স্টেশনে ঢুকলো। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, 'জঙ্গলে'র পথে অনেকটা যেতে হবে। 
মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্তাঞ্চলে এক বিশেষ অপারেশনের দায়িত্ব নিয়ে এসেছে আইপিএস সোমদত্তা সেন।
'প্রাথমিক'ভাবে ও জেনেছে, একটি ডাকাতদল রাতের অন্ধকারে ট্রেন থামিয়ে শুধুমাত্র ধনীদের সর্বস্ব লুঠ করে।
স্থানীয় পুলিশের এক বড়কর্তা ওর কথা শুনে ওকে ওখানে যেতে অনুরোধ করেছেন।
সাহসী সোমদত্তা খুশীমনে দায়িত্ব নিয়েছে।
ডাকাতের দলকে 'আয়ত্বে' আনতে ছক 'নির্ণয়' করে এগোতে হবে, 'ভুল' করা চলবেনা।


'মঙ্গল' ডাকাত অঞ্চলের সবার চোখে দেবতা।
ধনীদের লুঠ করে গরীবদের গ্রাসাচ্ছেদন করতো।


হতদরিদ্র মানুষগুলোকে দেখে সোমদত্তার মনটা নরম হলেও কর্তব্য আগে।'অপরাধ' করলে শাস্তি 'অনিবার্য'।
রিভলভার হাতে এগিয়ে গেল ও--

গুরুপ্রণাম - সুস্মিতা কুণ্ডু

আজ এই শহুরে লোহা ইঁটের জঙ্গলকে চিরবিদায় জানাবে হিমানীশ। জানেনা ওর এই সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল। এত লোক এত আঙ্গুল তুলেছে ওর দিকে যে নিজের ওপর বিশ্বাসটাই হারাতে বসেছে। 
বিদেশে মোটা টাকা মাইনের কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দেওয়াটা সবার চোখে অপরাধ। বন্ধুরাও বলছে এত অল্প বয়সে এত ঐশ্বর্য আয়ত্তে রাখতে না পেরে মাথাটাই গেছে হিমানীশের। 
অবিলম্বে একটা বিয়ে করে সংসার পাতার পরামর্শ দিচ্ছেন ওর অফিসের বস। এতেই নাকি ওর মঙ্গল, তবেই নাকি ও শুধরোবে।

ট্রেনের হুইসলে চিন্তাসূত্রটা ছিন্ন হল হিমানীশের। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে হ’লেও ট্রেনটা এসেছে। ঠিক যেমন অনেক দেরীতে হ’লেও হিমানীশ ফিরে যাচ্ছে সেই দূর গ্রামে, ফাদার ডিস্যুজার চার্চে, যেখানে অনাথ মৃতপ্রায় হিমানীশকে পঁয়ত্রিশ বছর আগে কেউ ফেলে গেছিল। এক সপ্তাহ আগে চার্চ থেকে আসা একটা চিঠিতে লেখা ছিল ফাদার ডিস্যুজার চলে যাওয়ার কথা। একাই চালাতেন চার্চের সঙ্গের অনাথ আশ্রম এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। উনি চলে যাওয়াতে অনিবার্যরূপে বন্ধ হ’তে চলেছে হতভাগ্য শিশুগুলোর একমাত্র আশ্রয়। 

নাহ্, হিমানীশ পারবেনা তার পিতৃভূমিকে ত্যাগ করতে। ফাদার ডিস্যুজার স্থান নেওয়ার তার এই সিদ্ধান্ত সঠিক কী না তা নির্ণয় করবেন স্বয়ং ঈশ্বর। 

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...