বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

গল্পে শুধুই তুমি - শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

ভোর-রাতে বৃষ্টিরা ভেসে গেলো
হাওয়ারা ফিসফিস একটু ঊনিশ বিশ
তোমায় নিয়ে আসর জমালো...

"শহরতলী জুড়ে গলির মোড়ে মোড়ে
তোমায় নিয়েই গল্প হোক

জানি তোমার ছন্দে অন্ত্যমিল নেই
তোমার ঊর্ধগামী বালিশ ছেঁড়া স্বপ্ন-ধোঁয়া
উড়ছে উড়ুক---"

নরম ছড়ানো পালক 
ঘুমভাঙা চোখে আবছায়া মুছে
সাজানো ডানায় মেঘ ছুঁয়ে নেয়
আকাশবাড়ীর আগন্তুক

তোমার স্বপ্ন মজলিসে
আমি জড়িয়ে আছি আলো আশেপাশে
ইচ্ছে-ঝিলে খুশীরঙা জলফড়িং ঢেউ ;

"তোমার চোখ মেঘলা হোক
তোমার কথাই পড়ছে মন
আঙুল ছোঁয়া মুদ্রাদোষ
তোমার কথার খুব ওজন

হজার করতালি তোমায় বলে খালি
তোমায় নিয়ে গল্প হোক "

তোমার শহর থেকে - রিক্তা চক্রবর্তী


আবার কবে দেখা হবে? আবার?
কুবো পাখি ডাকা বনে?
আমি কখনও দেখিনি সে পাখি-
জানোই তো, আমি শহরতলির মেয়ে-
ভাসতে ভাসতে এসে পড়িনি তোমাদের শহরে
:
মাঝে দু একবার রাস্তাচলতি ধাবায় ক্ষণিক বিশ্রাম নিয়েছি
মাঝে তো দুবার ছিঁড়েও গেছে হাওয়াই চটির স্ট্র‍্যাপ
অবশেষে ... অনেকক্ষণ হেঁটে হেঁটে খিদে চেপে পৌঁছতে পেরেছি
:
বললাম না, ভাসতে ভাসতে আসিনি এ শহরে
শহরতলির মেয়ে আমি ... সারাদিন রিক্সার প্যাঁক-পুকে অভ্যস্ত
স্টেশনের রাস্তায় ব্যস্ত ভিড়-
অটোর লাইনে মারপিট-এসবই জানি আমি
:
কিন্তু জানি না এই মেগাসিটির ট্রাফিক পুলিশ,
জেব্রা ক্রশিং, মেট্রো-টেট্রো ইত্যাদি সব ...
তাইতো পোড়া ডিজেলের গন্ধ, সাজানো ফুটপাতে
সাজানো মানুষের ঢল , সবই ভাল লাগে আমার
:
আর একটা মোড় ঘুরলেই তোমার বাড়ি
ঠিকানাটা একবার মিলিয়ে নিই দাঁড়াও
হ্যাঁ , এটাই ... আসলে এর জন্যই তো আসা আমার এ শহরে
:
দাঁড়াও একটু ... আর একটা মোড় তো?
জানি- একটু দাঁড়াও
সাত মাসের অন্তসত্বা আমার এ শহরে আসা শুধু তোমারই জন্য অনির্বাণ ..........
:

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

"এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়
এমন দিনে মন খোলা যায় "
ষড়ঋতুর বর্ণিল বৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলার প্রকৃতি ও মানব মন ।এর মধ্যে আষাঢ় -শ্রাবণ মাস , তথা বর্ষা আমাদের শিল্প সাহিত্যে এবং মননে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে আছে ।
বর্ষার আবেদনের চির সুধাময় রূপটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথই বেশী অনুভব করেছিলেন । সে প্রমাণ তাঁর বর্ষা পর্যায়ের গান ও কবিতাগুচ্ছ । ১৩১৭ সালে , এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় আশ্রমের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান- , “আজ এই ঘনবর্ষার সন্ধ্যায় প্রকৃতির শ্রাবণ-অন্ধকারের ভাষা আমাদের ভাষার সঙ্গে মিলতে চাইছে। অব্যক্ত আজ ব্যক্তের সঙ্গে লীলা করবে বলে আমাদের দ্বারে এসে আঘাত করছে।'-- তাঁর এ বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট , বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সাহিত্য , বিশেষত কবিতার কি লীলায়িত যোগ !
" এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা
গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন-ভরসা
দুলিছে পবন সনসন বনবীথিকা
গীতময় তরুলতিকা "
রবীন্দ্রনাথের হৃদয়জুড়ে বর্ষা এভাবেই শিল্প সুষমায় মণ্ডিত হয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিল , সে প্রমাণ তাঁর 'বর্ষামঙ্গল' কাব্য । 
বর্ষার চরিত্র বা সৌন্দর্যের যে বহুগামী বৈচিত্র্য তা অন্য পাঁচটি ঋতু থেকে স্বতন্ত্র, আর এই স্বাতন্ত্রবোধের জন্যই বর্ষা ' থিম হিসেবে বাংলা সাহিত্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত । মধ্যযুগীয় কবি জয়দেবের 'গীত গোবিন্দম ' বা বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ' এমনকি পরবর্তী কালে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, খনার বচন, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, স্বর্ণকুমারী দেবী, অক্ষয়কুমার বড়াল, প্রমথনাথ চৌধুরী ...সকলের লেখাতেই মূল থিম হিসেবে বারম্বার বর্ষা ' এসেছে ।
বর্ষা যেমন প্রেমের ঋতু , ভালবাসার ঋতু , তেমনই বর্ষা বিরহের ঋতুও । বৈষ্ণব পদাবলীর অধিকাংশ পদ আমাদের একথা বার বার মনে পড়িয়ে দেয় । মৈথিল কবি বিদ্যাপতি যখন লেখেন --
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ বাদর
শূন্য মন্দির মোর "
তখন সেই বুক ফাটা আক্ষেপ , সেই দীর্ণ বক্ষ চেরা যন্ত্রণা , আমাদেরও হৃদয় ছুঁয়ে যায় ।
আষাঢ় - শ্রাবণ মানেই ভালবাসার ঋতুকাল , ... এ প্রসঙ্গে কালিদাসের মেঘদুতম -এর কথা ভোলা যায় কি ? বিরহী যক্ষ উজ্জয়িনীর প্রাসাদ শিখরে বসে মেঘকে দূত করে পাঠিয়েছিলেন অলকা পুরীতে তাঁর প্রিয়তমার কাছে । কালিদাসের 'মেঘদুতম' এ  বিরহী যক্ষের সেই আর্তি কি আমাদেরও হৃদয় স্পর্শ করে অমর হয়ে ওঠেনি ?
বিষাদের কবি , সুররিয়ালিজমের পূজারী জীবনানন্দ দাশের কবিতায়ও বর্ষা'র থিম ব্যবহৃত হয়েছে , ব্যবহৃত হয়েছে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের লেখাতেও । 
বর্ষা ভালবাসার ঋতু ...বর্ষা প্রেমের ঋতু ।
মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র এবারের সংখ্যায়  রয়েছে  একাধিক ভিন্নধর্মী  লেখা । প্রতিটি লেখাই স্ব- মহিমায় উজ্জ্বল।
বর্ষার অনুপম মাধুরীতে হৃদয় সিক্ত করে ভাল থাকুন সকলে
পিয়ালী বসু
ডাবলিন
আয়ারল্যান্ড



মনখারাপের বিকেল __কৃষ্ণকলি খাটুয়া

বিকেল ৩টা : বিছানা ছেড়ে একটা চেয়ার টেনে সুমি জানালার ধারে গিয়ে বসলো ¦ বাইরে তখনও একনাগাড়ে বৃষ্টি পড়েই চলেছে ¦ যদিও বর্ষাকাল তবুও এটা নাকি নিম্নচাপের বৃষ্টি , সুমি কাল রাত্রে খবরে শুনেছে ...আগামী ৪৮ঘণ্টাতেও আবহাওয়া উন্নতির কোনও সম্ভাবনাই নেই ¦
বৃষ্টিতে ভিজতে সুমি খুব ভালোবাসে আর ভালোবাসে নিজে হাতে নৌকো বানিয়ে বৃষ্টির জলে ভাসিয়ে দিতে ¦কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী হলেও তার মধ্যে এই ছেলেমানুষীটা এখনো যায়নি ¦ আজ সুমি বৃষ্টি ভেজেনি , নৌকাও ভাসায়নি .. ¦
গতমাসেই ব্রেন হেমরেজের কারণে সুমির মাথায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে ¦ এখন এই ছোট্ট ঘরটাই তার পৃথিবী ¦ জানালার ধারে বসে সুমি দেখছে কিভাবে পথের পাশে বট গাছটা, স্কুল থেকে ফেরার পথে যার ঝুরি ধরে দোল খেতে খেতে বৃষ্টি ভিজেছে একদিন ;  তাকে ছাড়াই সে আজ মনের সুখে বৃষ্টি ভিজছে ¦ একদল ছেলে  হইহই করতে বৃষ্টি ভিজতে ভিজতে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে তারই বাড়ির পাশ দিয়ে , যে রাস্তায় একইভাবে সেও একদিন ......
"সুমি , মা আমার ...." মায়ের ডাকে সুমি ফিরে তাকালো ,তার মেঘ কালো মুখ দেখেই মা বললেন - "হ্যাঁ রে সোনা , আবার মনখারাপ করছিস ..."
"মা,আমি কি আর কোনওদিন...."
"ছিঃ ,মা ..ওকথা বলতে নেই ¦ ডক্টর বলেছেন তো, তুমি খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে ¦ "
"মা , তুমি খুব ভালো ....." মায়ের আঁচলে মুখ ঢাকে সুমি ¦

মনের জানালা __ দীপঙ্কর বেরা

শ্রীতমা জানলার গ্রীলে চোখ রেখে বৃষ্টি দেখে। দুদিন ধরে ঝরতেই আছে। কখনও বাড়ে কখনও কমে। হাতে এক কাপ কফি। 
বছর পাঁচেকের মধ্যে কত কি বদলে গেল। এই বৃষ্টিতে কত ভিজত। রমা রুণু বংশীর সাথে বিল পুকুরে চলে যেত। তারপর স্কুল পেরিয়ে কলেজ। ধরে বিয়ে দিয়ে দিল গ্রাম্য সামাজিক। 
আর শ্রীতমা পরিচিত হতে লাগল শহর কালচারে। চা খেতেও জানত না। এখন বিকেলে কফি না পেলে মাথা ধরে যায়। রাতে এক দু পেগ না হলে ঘুম আসে না। হোয়াটস অ্যাপস ফেসবুক ইস্ট্রাগ্রাম না হলে সময় কাটে না। 
বাবা বলেছিল - শ্রী, মা। এত ভাল পাত্র আর পাব না। ইঞ্জিনিয়ার। 
বিয়ের পরে ঋতম বলেছিল - আমার প্রেম ছিল। তোমাকে বাধ্য হয়েছি বিয়ে করতে। 
অথচ শ্রীতমা দেখেছে ঋতমের প্রেম শুধু টাকার সঙ্গে। পাল্টানো প্রেমিকা আসে এবং কাজের বাহানায় আরও মিলিত হয় হিল্লীতে দিল্লীতে। কিন্তু কিছুতেই জানান দেয় না। কথা ঘুরায়। 
গত দুদিন আগে এসেছিল। এত ভালোবাসে যেন নিম্নচাপ বৃষ্টির মত নাদী নালা পুকুর রাস্তা ঘাট জলে জলে ভরিয়ে দেয়। শ্রীতমাও ভেসে যায়। বাধ্য হয়। তারপর নিম্নচাপ কেটে যাওয়া আকাশের মত কোন খবর থাকে না ঋতম মেঘের। যক্ষপুরীতে শ্রীতমা একা হয়ে যায় অচেনা গোলকধাঁধা শহরে। 
শ্রীতমা ডিপ্রেশনের অর্থ খোঁজে জানলার বৃষ্টি ছুঁয়ে ছুঁয়ে।

মরীচিকা __ বেথুন বেরা

শুকনো একটা মন আর উটের মতো শরীরটাকে সঙ্গী করে -
সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত আমি মরিচিকার পেছনে ছুটে যাই এই জীবনরূপী মরুভূমিতে

কখনও ক্যাকটাসের আঘাত__ কখনও মরু ঝড়ের তান্ডব__ কখনও প্রবল বুকফাটা তেষ্টা
আমাকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে রাখতে চায়

আমি জানি আমি একা__ আমি অসহায়
আমি ক্রমশ-নিঃস্ব__ দিক্ভ্রান্ত
তবুও__তবুও আমি এগিয়ে চলেছি
শুধুমাত্র 
মরীচিকাতেই হাত রাখবো বলে


কারন_ তুমি আমার কাছে শুধুমাত্র__ শুধু-মাত্র 
মরীচিকা 'ই

আসুক ফিরে সুন্দর আবার __ চন্দ্রিমা গুপ্ত

সৃষ্টির কোলাজে স্রষ্টার সুনিপুন ছোঁয়া!
লেখনীর স্পর্শে প্রাঞ্জল হোক এ মহিমা,
মননে ঐকান্তিক ইচ্ছে শুধু আমার নয় 
হয়ত সন্মিলিত আকাঙ্খা ,
বাস্তব যেন অবরুদ্ধ দ্বার উন্মুক্ত ভাবনায়....
সুন্দরের ক্যানভাসে ক্রমশ সুস্পষ্ট
যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি!
কল্পনার শব্দ গাঁথায় প্রচ্ছন্ন অনীহা আজ
কবি প্রতিভার!
লেখনী শব্দ সাজায় প্রতিবাদী লেখায়
নিরাশ মনে ভাবনার গোপন ভাষা স্পষ্ট হয়,
বন্দুকের নলের অজস্র বুলেটের
আঘাতে অকারণ রক্তপাত!
অশুভ বুদ্ধির শক্তি বৃদ্ধিতে বোবাকান্নার হাহাকার.....
লেখনীই হোক অজেয়,দুর্নিবার
ফিরুক ভাবনায় সৃষ্টির কোলাজ.

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...