শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

ফেরা ~ শাঁওলি দে

কিছুটা ব্যক্তিগত ঢেকে রাখি অযত্নে,অবহেলায়
বাকিটুকু হৃদয় জোড়া,
যে স্বপ্ন একটা ঝড়ের জন্ম দেয়
আজকাল তাকে এড়িয়ে চলি

বিষন্ন পেরিয়েই সুখ সুখ এই অনুভূতি
তছনছ হব বলেই কি এত আয়োজন?

তুই ছাড়াও তো বেঁচেই আছি
. . . ফিরলে বদলাবে কিছু আদৌ?

লালজার্সি ~ সুশান্ত হালদার

কতদিন পর ভোরের আলো নেমেছে মাঠে
প্রতিপক্ষহীন এক তরফা খেলে খেলে
বড়ই ক্লান্ত, গা এলিয়ে দিয়েছে ঘাসে
দূরে চালতাবনে কাঠবিড়ালির রাজত্ব,
আজ নেই দুর্বৃত্তদের পাহারাদার
চিল শকুন এ তল্লাট ছেড়েছে অনেক আগেই
শালিক শাবক আলোর ঝুঁটি ধরে উড়াউড়ি করে

কতদিন ভেবেছি সবুজজার্সি গায়ে মাঠে নামবো
গোল্লাছুট খেলে খেলে যখন হবো ক্লান্ত
তখন দূর্বার জলে মুখ ধুয়ে নিবো
কলমিলতার বুকে বুক ঘষে ঘুমিয়ে পড়বো

এ তল্লাট এখন শত্রুমুক্ত
দেখছো না ডাহুক গলা ছেড়ে ডাকছে কাছে
বন্ধু, তুমি তো এ তল্লাটেরই ছেলে
বাইরে এসো - সমস্ত জড়তা ঝেড়ে,
লালজার্সি পরা প্রতিপক্ষ পেয়েছি বলে
আজ খেলা হবে মেন্দিপুরের মাঠে
যেখানে পূর্বপুরুষ শত্রুর সাথে খেলে
মুক্ত করেছিল এ দেশ

অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে ~ সুধাংশু চক্রবর্ত্তী

সামন্তদের বাড়ির কাজ শেষ করতে অনেকটা রাত হয়ে গেল মালতীর। বিকেল থেকেই আকাশের মুখ ভার হয়ে আছে। সামন্তদের বাড়িতে থেকে বেরিয়ে নিজের ঝুপড়ির দিকে দু’কদম এগোতে না এগোতেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। রাস্তাটা প্রায় সুনসান । তবুও ভালো রাস্তার আলোগুলো জ্বলছে। মালতী জোর কদমে পা চালালো বস্তীর দিকে।
বস্তীর গলিটা মোটেও ভালো নয়। মাধব মিস্ত্রীকে ক’দিন ধরেই লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাতে দেখছে। আজ বিকেলে যখন কাজে আসছিলো মাধব বেপরোয়া হয়ে ওর শাড়ীর আঁচল ধরছিলো । নিজেকে একঝটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে ঢুকে পড়েছিলো বোসদের বাড়িতে। ওখান থেকে কাজ শেষ করে গিয়ে ঢুকেছিলো সামন্তদের বাড়ী ।
বস্তীর গলিতে পা রাখতেই রাস্তার আলোগুলো নিভে গেল ঝপ্‌ করে। মালতী ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গিয়েছিলো কয়েক পলের জন্য। মাধব মিস্ত্রী নেই তো কাছে পিঠে! গলিটা ডুবে আছে নিকষ আঁধারে। যেন নরকেরও নরক তস্য গলি। ঝুপড়িতে কচিকাঁছা ছেলেমেয়ে দুটো ওর পথ চেয়ে বসে আছে। আহা রে, বাপে খ্যাদানো ছেলেমেয়েদুটোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিন প্রাণপাত করে খাটে। তবুও ছাই তেমন ভালো রাখতে পারছে কোথায়? আসার সময় দেখে এসেছিলো ছেলেটার জ্বর হয়েছে।
ভেবেছিলো তাড়াতাড়ি ফিরে এসে পাড়ার বুড়ো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে । তার আর উপায় রইলো না। এই বৃষ্টিতে ভিজলে নির্ঘাত নিউমেনিয়া বাঁধিয়ে বসবে।
ভাবনায় ডুবে থেকে গলির মাঝবরাবর চলে যে এসেছে খেয়াল করেনি। আর মাত্র হাত পঁচিশেক পথ বাকী।
মালতী প্রায় ছুটতে শুরু করলো। তখনই পেছন থেকে কোমরের কাছটায় কারো হাত পড়লো। মালতী ছিটকে সরে যেতে গিয়ে তলিয়ে গেল গাঢ় অন্ধকারে। তখনই কে যেন ওর মুখে গুঁজে দিলো রুমাল। দ্রুত হাতে বেঁধে দিলো হাত-পা। মালতী হাজার চেষ্টা করেও চেঁচাতে পারছে না। অন্ধকার গলি থেকে তস্য গলিতে চালান হয়ে যেতে যেতেই শুনলো কে যেন চাপা গলায় বললো, নিয়ে আয় শিবের থানের পাশেই ফাঁকা মাঠটায়।
মালতী কিছুক্ষণের মধ্যেই টের পেলো শিবের থানে নয়, চালান হয়ে যাচ্ছে বড় রাস্তার দিকে। আসার সময় বড় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলো একটা ছোট্ট মোটরগাড়ি। অসহায় মালতী হাত ফেরতা হয়ে এই অন্ধকার গলি থেকে মিলিয়ে গেল সমাজের আরও অন্ধকার কোনো একটা গলিতে। মিলিয়ে যাবার আগে নিজের অসহায় কচিকাঁচাদুটোকে সঁপে দিয়ে গেল ঈশ্বরের হাতে।

মনের চাওয়া ~ দেবাঞ্জনা পাল

আজ বৃষ্টি হতে চায় এ মন 
কালো মেঘের সাথে চলবে 
তাঁর লুকোচুরি খেলা
ঝরে পড়তে চায় সে বারিবিন্দু হয়ে
নরম সবুজের গা বেয়ে
ছড়িয়ে দিতে চায় শান্তির বারিধারা
*
আজ পাখি হতে চায় এ মন
উড়ে যেতে চায় ওই নীল আকাশের বুকে
পেরিয়ে দিতে চায় সকল কাঁটাতারের সীমা রেখা
ক্ষুন্ন করে দিয়ে সকল জাতিভেদ
*
আরও বহু চাওয়ার মাঝে আজ
ভালবাসতে চায় এ মন
স্বার্থের ভালো নয়, নিস্বার্থকে খোঁজে
যা ছাপিয়ে উঠবে সকল বাধারসীমা
পুড়িয়ে ফেলবে সকল জাতিভেদ
ছড়িয়ে দেবে শান্তির বারিধারা 

বর্ণমালা ~ রীনা রায়

কিছু রঙ বড়ই কমনীয়
আলতো নরম আবেশে,
কিছু রঙ সাহসী ভীষণ
অহংকারী– প্রতিবাদী সে

কিছু রঙ কামনার শর
চুম্বক-আকর্ষণে টানে,
কিছু রঙ হতাশার খনি
বৃষ্টির জলছাপ বেরঙিন গাঙে

কিছু রঙ হাঁটে রংরুটে
দিশেহারা অলস চরণ,
কিছু রঙ বিষাদমাখা
কাছে যেতে কুন্ঠা অকারণ

কিছু রঙ বড় অভিমানী
বেদনার রঙ গাঢ় নীল,
কিছু রঙ পবিত্রতা মাখা
মাথা নত, শ্রদ্ধা অনাবিল

কিছু রঙ শুধু তোমাকে মানায়
মুগ্ধ দুচোখ অপলক ছুঁয়ে যায়!

শূন্য ~ বাসব মণ্ডল

সৃষ্টির প্রাগৈতিহাসিক জরায়ুতে
ঝুঁকেও
লিখতে পারিনি একটা লাইন
প্রেমের মায়াবী লকগেট
খুলেও
বেরোয়নি একটা শব্দ
বুদবুদের কক্ষপথ ঘেঁটে
হতে চেয়েছি মায়াবী
তাও আসেনি বর্ণ
যেওনা,লেখা
চলে যেওনা
সময়ের কাছে আরও একবার চাইছি তোমাকে

UNCHASTE ~ Durba Mitra

Pheromone ooze in my mind
Your chest hairs engulf my whole spirit
Merely physically fornicating legal husband

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...