বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

অদাতা ~ সিদ্ধার্থ মুখার্জ্জী

বোয়েই যদি বেড়াই তোমার বিড়ম্বনার দাবী...
আড়াল করে রেখোই নাহয় তোমার সুমুখ খানি...
এক নিমেষে প্রেমের চিকণ, শয্যাতলে ভেসে...
পূর্ণা নারী অপুর্ণ, হোক না ভালোবেসে...
কি আসে যায়? আঙুল চুটকির সিঁদুর, নাই বা পেলে?
প্রেম ভাবনায়, অপূর্ণতা, স্থান পায়নি জেলে.

অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো ~ সুধাংশু চক্রবর্ত্তী

মরতে চেষ্টা করবো কেন? এমনিতেই যে মরে আছি।’ মৃতপ্রায় অমৃতা আপ্রাণ চেষ্টা করে কথাকয়টা উগড়ে দিলো মুখ থেকে।
আপনাকে ঐ খাবার কে খাইয়েছে?
কেউ না। আমি নিজেই খেয়েছি ওই খাবার। বরাবর নিজের হাতেই খেয়ে অভ্যস্ত যে।
ঠিক আছে, আপনি নিজের হাতেই খেয়েছেন। কিন্তু খাবারে বিষ মেশালো কে?
আমাকে একটু শান্তিতে ঘুমোতে দিন। আর পারছি না জেগে থাকতে। 
আগে বলুন যা জানতে চাইছি। আপনার কথা শুনে যে করেছে তাকে ধরে এনে এমন শাস্তি দেবো যে জীবনে কক্ষনো......
থাক্‌, আপনাদের অত কষ্ট না করলেও চলবে। অমৃতা বাধা দিলো। 
কষ্ট হবে কেন? এটা তো আমাদের কর্তব্য।
কোথায় ছিলো আপনাদের এই কর্তব্য জ্ঞান? যতবারই অভিযোগ করতে থানায় গিয়েছি ভাগিয়ে দিয়েছেন। আজ কর্তব্য দেখাতে এসেছেন? কথাগুলো বলে অমৃতা হাঁপাতে লাগলো। শেষ নিশ্বাসটা কিছুতেই বেরোতে যে চাইছে না। গলার কাছে আটকে আছে। এভাবে আর কতক্ষণ! অনেক কষ্টই তো সয়েছে এই কয় বছরে। শাশুড়ি বেঁচে থাকলে না জানি আরও কত যাতনা সইতে হতো! 
ঠিক আছে। এবার বলুন দেখি, আপনাকে বিষ খাইয়ে মারতে চাইলো কেন? 
অমৃতার প্রবল ইচ্ছে হলেও অনেক কথাই বলতে পারছে না। বলতে ইচ্ছে করছে, স্বামী ওকে বিয়ে করে এনে ব্যবহার করতে চেয়েছে। বলতে ইচ্ছে করছে, ও আসার পর এই সংসারে কিছুটা হলেও চাপা শান্তি ফিরে এসেছিলো। খুব ইচ্ছে করছে বলতে, প্রতীবাদ করতে গিয়ে...... অমৃতা ভাবনা ছেড়ে পাশ ফিরে শুলো। অতশত বলার সুযোগ যখন পাবে না খামোখা চেষ্টা করে কি লাভ? তারচেয়ে চিরঘুমে তলিয়ে যাওয়া অনেক ভালো।

অপূর্ণ ~ শ্যামশ্রী চাকী

তেষ্টা কি আর মিটে ম্যেডাম!! আল্লায় দেসে বান্দায় খায়ে বাঁচে।' ঝুঁকে পড়ে লতাটা টেনে আনে পঁয়ত্রিশের বাবুদ্দিন। পানিলতি!!জয়েন্তী পাহাড়ের সেই বিখ্যাত লতা,কাটুম কুটুম সংগ্রহকারীদের জন্য জীবনদায়ী। ডালটা ছিঁড়তেই জলের ধারা, কিছুটা গলায় ঢালে নীপা। ঈষৎ কষটে হলেও এই গহীন বনে তৃষ্ণা নিবারক।
হঠাৎ একটা শব্দ হতেই এক ঝটকায় এক ঝোপের পেছনে নীপাকে শুইয়ে ফেলে বাবুদ্দিন। নিজে নীপার ওপড়ে!! আতংকে নীপার গলাদিয়ে আওয়াজ বেরোয়না, শক্ত হাতে চেপে ধরে ভয়ার্ত নীল ঠোঁট। তাকিয়ে দেখে, সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে হলুদ চাদর; ডুয়ার্সের ত্রাস চিতা!! নীপা জড়িয়ে ধরে বাবুদ্দিনকে, ভয় পরিনত হয় ভালোলাগায়। বাবুদ্দিনের পেশীববহূল শরীরে মিশে যেতে চায় নীপা। একসময় পাখি আর বাঁদর ডেকে ওঠে। গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বাবুদ্দিন। 'লাগে নাই ত ম্যেডাম?' ধীর পায়ে কাটুম কুটুম গুলো কুড়িয়ে ফিরে আসে রিসোর্টে। সফেন বিয়ার হাতে পার্থ বারান্দায় বসা। শারীরিক ভাবে অক্ষম পার্থ সব জানিয়েই বিয়ে করেছিল বাপ মা মরা আর্ট কলেজের ছাত্রী নীপাকে। শখ আহ্লাদ কোন কিছুরই ত্রুটি রাখেনি, নীপার আবদারটুকু পুরণ করতেই এই জয়েন্তীতে আসা। রুমে ঢুকে প্রান ভরে ঠান্ডা জল খায় নীপা।

ত্রিপদ : সুপ্ত কথা পারমিতা চক্রবর্তী

" মেঘবালিকা " বৃষ্টি হতে চেয়েছিল 
চেরাপুঞ্জীর নিঃশ্বাসে অগ্নি হয়ে 
চৈত্রাবসান চেয়েছিল 
অবলুপ্ত বারিধারা

*

স্মৃতির ট্রপোস্ফিয়ার আবর্তে 
পরকীয়া দৃষ্টি
সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিল 
অন্তঃসত্ত্বা মন স্বপ্নের কিনারে 
উল্কার হায়নায় দঃশন করেছিল 

*
চুম্বকীয় শক্তির স্বপ্নের জাহাজে
বিকর্ষিত ইস্পাত কণা
বারুদের ঘ্রাণ
কালিদাস হতে চেয়েছিল ৷

উটপাখি ~ ওয়াহিদ মেহবুব মজুমদার

কিছু গোছালো স্বপ্ন। ইতিহাস...
ঘুমোতে না দেওয়া রাত; লুকোয় বালিশ। 
অথবা 
চায়ের কাপ। অজুহাত যতটা গভীর...
নীরবতা ঠিক মাপতে জানে। 
প্রতিভোরে উটপাখি ভাবে--
আজ ওড়ি ডানামেলে।
কিছু পথ, আঁকে জলফড়িং। 
নামেনা আকাশ। মেঘহীন ঢেউ। ছাই জমে স্রোতে।
তবু পাশাপাশি হাঁটি। দু'জনে। ওড়া হয়ে ওঠেনা।

আনন্দ ~ লাভলী বসু

আনন্দ আজ কোথায় পাবো ?
ছোট্টোবেলার সেই যে খুশি ?
সব হারিয়ে এখন বুকে 
দুঃখ এবং কষ্ট পুষি !

*
ঠাম্মা দাদুর গল্প বলা 
রূপকথার ঐ গপ্পো পড়া 
লালকমল ও নীলকমলের 
পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়া !

*
রাজকুমার আর রাজকুমারী 
জিয়নকাঠি মরণকাঠি 
তাদের কোথায় হারিয়ে ফেলে 
অন্ধকারে একলা হাঁটি l 

*
খোকার এখন ঘুম আসে না 
চাঁদমামার ঐ টিপের সাথে 
চড়কাটি আজ আর ধরা নেই 
চড়কাকাটা বুড়ির হাতে !

*
দৈত্যপুরী উধাও হল
খোকার স্বপ্ন তাড়িয়ে দিয়ে 
নতুন যুগের নতুন দানো 
এসেছে আজ কিসব নিয়ে 
ব্যাঙ্গমা তাই পালিয়ে গেছে 
কোন সুদূরে অচিনপুরে 
আনন্দ আজ পথ ভুলেছে 
হয়তো গেছে অনেক দূরে !

তোমাকে হারাবার বেদনায় ~ জাকিয়া জেসমিন যূথী

রোদে ঘুরে ঘুরে যখন আমি তৃষ্ণার্ত, 
একা একলা চার দেয়ালের মাঝে গুমড়ে মরছি, 
হারিয়ে ফেলছিলাম নিজেকে নিজের ভেতরে
সবার থেকে দূর অতীত কালের গহ্ববরে! 
.
তুমি যেন এক দেবদূত কোত্থেকে এলে
টেনে নিয়ে এলে ঠিক আমার ভেতরেরই আমাকে!
পাশাপাশি এক সুকঠিন অবলম্বন তুমি আমার
পাশে থাকলেই ভরসা, সব বাঁধার পরাজয়! 
“আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামে নি
শুধু তুমি চলে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি”
.
তোমার আগমনে শিখেছি আমি স্বপ্নের কারুকাজ,
দেখেছি আমি প্রকৃতির রং-রূপের মেলা!
আমি বৃষ্টি দেখেছি, বৃষ্টির ফোঁটায় খুঁজে পেয়েছি
জীবনের নানা বোধ, বেঁচে থাকবার অনুপ্রেরণা!
.
তুমিই দিয়েছো উৎসাহ, স্বপ্নীল সুদূরে, 
একান্ত একাকী বাঁচবার রসদে করেছো পূর্ণ... 
তবু বেদনাময় আমাকে, তোমার অনুপস্থিতি ভাবায় 
“আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামে নি
শুধু তুমি চলে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি”! 

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...