বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

আমি ভাবনায় ~ দীপঙ্কর বেরা

আলোকলতার মগ্ন পাহারায়
'আমার আকাশ কুসুম'
অচেনা গণ্ডির মাপা উচ্চতায়
লিখি নিশ্চিত নিজ ঘুম,
তাই 'স্বপ্ন দেখার খেলা থামে নি'
আমিও উপর ঘরে রঙিন
মাটি ছোঁয় নি ভাবনা অবধি
অগোছালো মন বেদুইন।
তুমি টান মারা এ আমি চর্চায়
দেখি 'শুধু তুমি চলে যাবে' 
'আমি স্বপ্নেও ভাবি নি' একটুও
আমি পৃথ্বী এমনটা দেখাবে

কবিতা : আমি বেঁচে আছি ~ জুবায়ের আহমেদ

মনে পড়ে অপরাজিতা? 
সেই তালতলার বনে কথা দিয়েছিলে 
অভয় দিয়ে বলিছিলে, জোনাকির আলো ফুরোবে
কিংবা নিভে যাবে চাঁদ।
তবু তুমি থাকবে আমার পাশে
হৃদয়ের খুব কাছে, 
চোখের তারা হয়ে। 
*
তুমিই স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলে।
কথা দিয়েছিলে, 
অভাব এলেও ভাবতে হবেনা।
নিয়ম করে ভালবাসা খাব দুজনে। 
আমি অট্টহাসি দিতাম আর তুমি বকতে,
তোমার কি সব মনে আছে অপরাজিতা?
*
তুমি ছিলে বলেই আমি পথ চলেছি,
নিয়ম করে রোদ মেখে 
আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।
'আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি'

আমি আজো অপেক্ষায় আছি অপরাজিতা।
তোমার দেখানো পথে হেটে হেটে
আমি এখনো লিখে যাই পরবাস্তব কিছু কথা।
কে বলে আমি পাগল হয়ে গেছি? 
অপরাজিতা আসবে বলে 
আমি এখনো অপেক্ষা করি।

যাযাবর মন ~ শমিতা রায় চক্রবর্তী

আকাশ দেখাটা ছিল অছিলা 
মেয়েটা যখন রোদ্দুরে একপিঠ মেঘ মেঘ কালো চুল শুকাতো 
অপলক তাকিয়ে থাকতাম -----
গোপন ইচ্ছেটা অনিকেত মনটাকে 
ঘরমুখী করছিল -
প্রিয়া মুখ দেখার বাসনায় 
কাটছিল দিন -রাত ----

তারপর -----
হাজার আলোর রোশনাই ; সানাই এর সুর যে 
রাতের আকাশ বাতাস মুখরিত করেছিল 
সেই রাতই বোধকরি 
আমার জীবনের সবচেয়ে 
অন্ধকার রাত ছিল !
আকাশে তখন দেখেছিলাম 
শুধু ঘোর -কৃষ্ণ মেঘ -

মনটা আবার পথমুখী ------

মধ্যযাম ~ মধুমিতা ভট্টাচার্য

মধ্যযামে দেখল নারী সবার অলক্ষ্যে
কৃষ্ণচূড়ার কাঁধে মাথা, আকাশ গভীর সখ্যে
প্রাণের কথা আলাপচারী সাক্ষী দূরের গ্রহ
হালকা মেঘের এলো-চুলে হাতছানি সম্মোহ!
আঁধার গলে, চাঁদের আলো জড়ায় ছাদের আলসে
'এসো' বলে তবে কি ডাক দিয়েছিল কাল সে!
প্রিয়া যে কাল হারিয়ে গেল, হারালো চীনাংশুক
ইচ্ছে নদীর ওপারে কে দাঁড়িয়েছিল উন্মুখ!

অতৃপ্ত জিয়োমেট্রি ~ অরূপ গাঙ্গুলী

নির্লিপ্ত অভিলাষের নাছোড়বান্দা অভিপ্রায়ে
চোখ রাখি বাইনোকুলারে
রঙপেন্সিল সহজ পাঠ ওয়াটার বোতল
স্কুলের রঙ চটা ঘরে কাঠের বেঞ্চের সাথে দিব্যি বসত করে
জাহাজের ডেকে নীল ঢেউয়ের বুদবুদে
হতে থাকা ক্রুপসার্কেলের তিলচিটে গ্র্যাফ
ঠিক করে দেয় অটোবায়োগ্রাফির রঙ গুলো
পীথাগোরাসের উপপাদ্য আজ বড়ো বেমানান
আইফোনের স্কিনসেভার আর ব্লেজারের ডিম্যান্ড ড্রাফট ঠিক করে দেয় হৃৎপিন্ডের গতিবেগ
প্রিয় সুখের ইচ্ছেরা খুঁজে ফেরে পূরণ নিবাস
ছাদের টবে রাখা গাছের শুকনো পাতার জীবনী চলফেরা করে ভেলভেট বিছানায়
মানবতাবাদ বুনো ঝুল হয়ে ঝুলে থাকে সীলিং'র ফাঁকে
ভ্রুন থেকে শৈশব পেরিয়ে চলতে থাকে জীবন যুদ্ধ বেঁচে থাকার
ম্যাগনোফ্লাইং গ্লাসে জমে থাকা অব্যক্ত ইচ্ছের ক্লোরোফিল ঘুমিয়ে পড়ে ক্লোরোর্ফাম শিশিতে
বুকের আগুন জ্বালা চিৎসাঁতার কাটে শহরের ব্যাস্ততম রাস্তায়
এক একটা দিন প্রতিসময় জীবন হাততালি পায় সার্কাসের রিং'র শেডের নিচে
সময়ের ঠিক করে দেওয়া "শব্দ"
স্টিয়ারিং হাতে নিয়ন্ত্রন করতে থাকে আপোষের বর্তমান
স্বার্থের জিয়োমেট্রি পরিমাপহীন বৃত্তের বিস্তার করে ঘরে বাইরে
দেখা হয়না কিছুই "নিজ স্বত্তাই "চড়কী পাক খায় জটিল অংকের জাঁতাকলে
না পাওয়া ট্রাডিশান সাথে নিয়ে জীবন রচনা করে অপূর্ন ইতিহাস
সাদা খাতার পাতায় পাতায়
"অব্যক্ত দীর্ঘনিশ্বাস" এগিয়ে চলে বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ 

শব্দমিছিল ~ সুদীপ্তা নাথ

নির্নিমেষ বয়ে চলা শব্দেরা,
নিশীথের অবকাশে,
শয্যার পাশে এসে দাঁড়ায়।
চোখ ছুঁয়ে বলে যায় শতাব্দী-প্রাচীন গল্পগুলো।

তন্দ্রাবেশ ছুটে গেলে,
ঘিরে ধরে অক্ষরমালা।
চায়ের পেয়ালা ছুঁড়ে ফেলে,
কলার চেপে ধরে।

অসহ্য যন্ত্রণায় ডুকরে ওঠে বুক,
অজন্মা শব্দের নিথর দেহ হাতে নিয়ে,
লেখার টেবিলে উঠে যাই।
ডায়েরীর সাদা পাতায়,
কলমের আঁচড়ে কবর দেবো বলে। 

সাময়িক সময় বহন ~ রিক্তা চক্রবর্তী

সময়টা এখন হেভিওয়েট নজর কাড়া 
এক একটি হত্যার শেষে নতুন ভাবে মুহূর্ত যাপন 
*
আমিও আপ্রাণ চেষ্টা করি মুখ ঘুরিয়ে থাকতে সময়ের অবয়ব থেকে 
আত্মবিস্মৃত স্ব-প্রবঞ্চনায় রাজনৈতিক জবর দখলের অধিকার শেষে 
কবিতা লিখতে চেয়েও প্রবল ভাবে ব্যর্থ হই 
*
যৌথ চারণভুমি জুড়ে এখন নির্লজ্জ স্বপ্ন ভঙ্গের
ক্লান্তি বিদ্রোহ আর আত্মগ্লানির মূর্ছনা 
*
নিজের ওপর রাগ জন্মায় চরম হতাশায় 
চিবুকে চলকে ওঠে গরম চা 
জীবন কে বাজি রেখে লিখতে চাওয়া কবিতার 
এ অপমৃত্যু সহ্য হয় না 
*
শান দিই ছুরি তে 
সব শেষ করে দেবো ভেবেও বসন্তের বাসি রঙ গায়ে মেখে 
ফিরে আসি লাশে ঘেরা সম্প্রতি অচেনা এই শহরটাতেই 
*
দেখি ফুটপাত জুড়ে পড়ে থাকা রক্তের দাগ অদৃশ্য 
ধর্ম আর রাজনীতির কফিনে বন্দী 
ঝরে পড়া অক্ষরগুলি বহন করে চলি ... নিরক্ষরাখা বরাবর 

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...