সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ডায়রি ~ অনিরুদ্ধ ব্যানার্জি

কষ্টেরা সব রাতের আড়াল খোঁজে,
সুখের বোঝা শুধুই সকাল চায়-
কষ্ট থেকে সুখেরই মাঝখানে,
একটা গোটা রাত্রি পেরিয়ে যায়...
:
কান্না তুমি বালিশ চেন শুধু
রাত্রি জানে সমঝোতার ই মানে।
সকাল তুমি মুখোশ ভালোবাসো,
গোপন কথা আয়না টুকু জানে...

বেশ তো আছি ~ লাভলী বসু

কেমন আছিস আমায় ছেড়ে ?
কেমন আছিস অনেক দূরে ?

:
তোরও কি আজ লাগছে ফাঁকা 
আমায় ছাড়া একা একা ?

:
এই তো সেদিন খুব কাঁদালি 
পথ আলাদা বুঝিয়ে দিলি 

:
জানিস আমার ঘুম আসেনা 
রাতপাখীদের ইচ্ছেডানা 

:
এখনো আমার একলা ঘরে 
অঝোর ধারায় বৃস্টি পড়ে 

:
আজও যেমন লিখতে বসে 
বানভাসী মন তোকেই খোঁজে 

:
সূর্যোদয়ের স্নিগ্ধ ভোরে 
তোর মুখটাই মনে পড়ে 

:
তবুও আমি বেশ তো আছি 
স্বপ্ন নিয়ে ভালই বাঁচি 

বন্ধু তোমায় ~ সুদীপ্তা নাথ

মননে আনাগোনা করে ভবঘুরে দিন,
কোন সে আলেয়ায় যে হারালাম তোমায়!!
ধূমায়িত উষ্মায় চাপ চাপ অভিমান,
ছুঁয়ে দেখেছো কখনো!??
কোন অকাল বসন্তে এলো প্রেম,
বানভাসি সময়....নোনতা আবেগ
:
যদি বলি পিকাসোর ক্যানভাস থেকে লাল চেঁছে নিয়ে,
রাঙাবো তোমার প্রিয় কৃষ্ণচূড়া?
ফিরে চাইবে কি একবারও!?
আমি বৃথাই তবে পেতেছি রঙ-তুলির সংসার।
লাল ভেবে আগুন রেখেছি ভরে...বেরঙিন ভায়ালে।

কাব্যাভিমান ~ অরুণজীব রায়

আর কবিতা লেখেনা সাগ্নিক। সময়ের দোলাচলে দুলতে দুলতে এক-দুই-তিন করে যখন তার নবম কবিতার বইটি প্রকাশিত হয় --- একটি কবিতা নিয়ে প্রচুর সমালোচনামূলক চিঠি পেল সে। পূর্ব প্রকাশিত আটটি কাব্যগ্রন্থ সর্ব সাকুল্যে একশো কপি করেও বিক্রি হয়নি। অথচ এই নবম কাব্যগ্রন্থে তার চিঠির সংখ্যা ছাড়িয়েছে দশ হাজার।
:
কেউ বলছেন, "আপনার কবিতায় কোন ধার নেই।" কেউ বলছেন, "এতো সাদামাটা ভাষায় কবিতা হয় নাকি!" আবার কেউবা, "আরে মহাশয়, কবিতা পড়ে যদি একটু ভাবনাই না পেলো তো আপনার বই কিনতে যাব কেন।"
:
আজ সাগ্নিক বুঝতে পারে কেন টলস্টয় বলেছিলেন, "আমার লেখাকে রাশিয়ানদের মানে না নামিয়ে, রাশিয়ানদেরকে আমার লেখার মানে উন্নীত করুন।" বুঝতে পারে রবিঠাকুরের সেই "জামা" আর "মোজা"র মর্ম।
অভিমানের শেষ ভাষায় সে লিখে চলে---
"যে ভাষা হারায়ে কাব্য প্রবেশিল অন্তরে মম
দুর্ভেদ্য কাব্যের প্রাচীরে ভেদিল সে শিকড় সম।"

একমুঠো বাতাস ~ সুধাংশু চক্রবর্ত্তী

ছেলেটা কোথায় চলে গেছে জানা গেল না। চলে গেছে? নাকি গুম হয়ে গেছে? সেলফোনটা পড়্বে রয়েছে পড়ার টেবিলের ওপর। হয়তো জেনেবুঝেই ফেলে গেছে। পাছে ধরা পড়ে যায় সেই ভয়ে! নয়তো সাথে নিয়ে যাবার সুযোগ পায়নি! অসহায় বিপ্রদাসবাবু কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। মা হৈময়ন্তী কেঁদে কেঁদে চোখদুটো ক্রমাগত ফুলিয়ে চলেছেন। এক মাত্র সন্তান। সে যদি না বলে কয়ে কোথাও চলে যায় তাহলে কান্না ছাড়া আর কিই বা পড়ে থাকে হাতে?
ক’মাস ধরেই গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করছিলো কতগুলো ছোকরার সাথে। মাঝখানে দু-তিন রাত ঘরেও ফেরেনি। ফিরেছিলো পরদিন সকালে। উদ্ভ্রান্ত চেহারায়। বিপ্রদাসের বকাঝকা আর হৈমবতীর কান্নাকাটিতে এতটুকুও পালটায়নি ছেলে। তারপর গত সন্ধ্যে থেকে একেবারে বেপাত্তা!
দিন গড়ায়। মাস গড়ায়। বছর গড়িয়ে যায়। ছেলে ফেরে না। বছর ঘুরে ঘুরে মাঝবয়সী বিপ্রদাসবাবু বৃদ্ধ হলেন। চোখের জল মুছতে মুছতে হৈমবতী দৃষ্টি খুইয়ে অন্ধ জবুথবু হয়ে পড়েছেন। সেই যে বেপাত্তা হলো আর কোনো খবরই পাওয়া গেল না ছেলের। যেন একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল পৃথিবীর বুক থেকে!
ঠিক বারো বছরের মাথায় ছেলের শ্রাদ্ধশান্তির ব্যবস্থা হলো। শাস্ত্রমতে তেমনটাই যে করতে হয়। আগামীকাল সকালে কাজ হবে। দুপুরের সামান্য কিছু মুখে দিয়ে বিপ্রদাসবাবু পূজার সামগ্রীগুলো গুছিয়ে রাখতে বসেছেন। তখনই পিয়োন এসে লিফাফা বন্দী একটা চিঠি দিয়ে গেল। লিফাফার ওপর শুধু তাঁরই নাম ঠিকানা লেখা আছে। কে পাঠিয়েছে কিছুই লেখা নেই। জানতে পারছেন না কে লিখেছে। দ্রুত হাতে লিফাফা খুলে বের করলেন একটুকরো কাগজ। কোনো সম্বোধন নেই। নেই কোনো নাম। শুধু লেখা আছে ‘আমি আছি, বেঁচেই আছি’। গলা তুলেই পড়লেন চিঠিটা।
শুনেই হৈমবতী আর্তনাদ করে উঠলেন, কে? কে লিখেছে? মানাই?
বিপ্রদাসবাবু জবাব দিতে না পেরে একমুঠো বাতাসের জন্য হাঁকপাঁক করতে করতে আবার মন দিলেন পূজোর সামগ্রী গোছানোয়। পুরুৎ বলে গেছেন সকাল সকাল চলে আসবেন। অনেক সময় লাগবে শ্রাদ্ধশান্তির কাজে। 

লুকোনো চিঠি ~ সৌমলেন্দু ঘোষ

বাবা,

 এই চিঠি তুমি যখন পড়বে তখন আমি আর এই পৃথিবীতে নেই। ভয় নেই, কাউকে দায়ী করে সুইসাইড নোট লিখতে বসিনি; বুকশেলফের এই বইটা হয়ত পুলিশ কখনো খুলেও দেখবে না, চোখে জল নিয়ে আদরের মেয়ের শখের বইগুলোর ধুলো ঝাড়তে গিয়ে হয়ত মায়ের হাত থেকে এই বইটা মাটিতে পড়বে, তখন তুমি এই চিঠিটা পাবে। তুমিই শিখিয়েছিলে সবসময় মাথা উঁচু করে বাঁচতে, সেই তুমিই সমাজের চাপে আমার জীবনটাকে পিষে দিলে? কি এমন দোষ করেছিলাম আমি? তুমি চেয়েছিলে আমি মেডিকেল নিয়ে পড়ি, তোমার দেমাকী কলিগ রোহিত আঙ্কেলের মেয়ে তৃণার মত মস্ত বড় ডাক্তার হই; আচ্ছা, ইচ্ছা করলেই কি সবাই সবকিছু হতে পারে? আসলে তোমার মধ্যে ছিল টেক্কা দেওয়ার অদম্য ইচ্ছা, বিলাসিতার হাতছানি, কোনদিনও জানতে চেয়েছ আমার মনের কথা? 
"শেষমেষ, ইংলিশ অনার্স, ছিঃ" বলে মুখটা ঘৃণায় বিকৃত করেছিলে যেদিন, আমার মনের কষ্ট কেউ দেখেনি। কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে আলাপ হল সুমন-দার সাথে, একঘেয়ে জীবন তখন উন্মাদনার কালবৈশাখী চাইছে। তারপর লুকিয়ে ঘোরা, পার্ক, সিনেমা; অফিসফেরতা তুমি দেখে ফেললে একদিন, তারপর বাড়িতে মায়ের বকুনি। সেই দিনটার কথা খুব মনে পড়ছে, কলেজ এক্সকার্শনের নাম করে সুমনদার সাথে গোপালপুর অন-সি, সেই দুইদিন মনে হয়েছিল জীবনে সবচেয়ে সুখের, ওর ষ্পর্শ সারা শরীরে নিয়ে ফিরে এসেছিলাম। কয়েকদিন পরেই মা তোমার কানে কানে কি বলল, আর তুমি এসে সপাটে মারলে এক চড়; 
"বেশ্যাগিরি চলবে না এখানে, এটা ভদ্রলোকের পাড়া, উফফ! কিভাবে যে লোককে মুখ দেখাব, অফিস থেকে ফিরে তোমার মুখ যেন আর না দেখি" এই ছিল তোমার আমাকে বলা শেষ কথা। সুমনদা বলল "হুর পাগলী, কাঁদছ কেন? অ্যাবরশান করিয়ে নাও, ফালতু ঝামেলা বয়ে কি হবে, আমার সব চেনাশোনা আছে"... 
পারলাম না শেষ পর্যন্ত; মাথা উঁচু করে যখন বাঁচতেই পারিনি, তখন আমার মরাই ভালো। হয়ত তোমার সোস্যাল স্ট্যাটাস বাঁচানোর জন্য টাকার জোরে গায়েব করবে আমার প্রেগনেন্সির রিপোর্ট, শুধু পরের দিন খবরের কাগজের এককোণে ছাপা হবে "তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু".

এখন ভাটিয়ালি বন্দী ~ অনিরুদ্ধ দাস

গ্রে মেঘের গায়ে যায় নায়তে
আমি বন্দিশ করি না,
নিই সঙ্গম-রতি সুখ।
:
উড়ালপুল খোপ খোপ...
স্প্লিট এ.সি'র রিংটোন...
প্লাস্টার অফ্ প্যারিসের দেওয়াল...
নিচ্ছি কোকিল নীড়-সুখ
:
তন্হা তন্হা সময় ভাঙ্গে,
ঝুল বারান্দার উঠানে,
আমি আরাম কেদারায়-
বসে রই;
:
আমি চাঁদ বুকে নিতে চাই-
সব সবুজ সবুজ...
ভরন্ত মাঝদরিয়া নিয়ে
হরপল বনবীথি মচ্ত করে,
প্রতি অরুণ উদয় অস্তরাগে ;
:
এখন রসকলি চারু অঙ্গরাগ
ট্যাটু আপটুডেট,
হট শোম্যান;
দিলদরিয়া! এখন ভাটিয়ালি বন্দি

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...