মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

নতুন বছর । নতুন সুর । নতুন বই । 
গত ২৭ শে জানুয়ারী মিলন মেলা প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে বাঙ্গালীর নিজস্ব দুর্গোৎসব । পড়ন্ত শীতের শেষ মিঠে ঠাণ্ডায় নিজেকে আরও একবার সেঁকে নিতে বইয়ের জুড়ি মেলা ভার । সুতরাং আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা উপচে পড়া বইপিপাসু হাজার সহস্য প্রকাশক , কবি , লেখক ও পাঠকে। সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিডে এখন হট টপিক 'বইমেলা ' -- বছর চারেকের ছোট বাচ্চাটিও এখন খেলা ফেলে শনি-রবিবার এক থেকে দুই , দুই থেকে তিন , তিন থেকে একাধিক স্টলে ঘুরে বেড়িয়ে ক্লান্ত । 
      এই ফেব্রুয়ারীতেই 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' -- 'অমর একুশ ' , বাঙালী হিসেবে আমরা নিশ্চয়ই ভুলে যেতে পারি না হাজার হাজার শহিদের রক্তাক্ত সংগ্রাম ? একুশে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠা দিবস । বাঙালী হিসেবে আরও একবার গর্বিত হওয়ার দিন একুশে ফেব্রুয়ারী । 
      উৎসবের এই মরশুমে রোদ্দুর পা রাখলো দশ মাসে । এই দশ মাস যাঁদের সৃজনশীল লেখনীতে সেজে উঠেছে রোদ্দুর , তাঁদের সবাই কে উজ্জ্বল ধন্যবাদ । 
     ভাল থাকুন সকলে এবং ভাল লিখুন    Because writing is the reflection of unsaid voices . 

শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু 


চরিত্র টি কাল্পনিক ~ শমিতা চক্রবর্তী

আমি সুলগ্না  সেন ----
বহুদিন পর হাতে কালি কলম ;
আমার অবক্ষয়ের দিনলিপি !
মনে পড়ে সেই সব দীন ?
বয়স -সন্ধির স্বপ্ন নিঙড়ে
কুঁড়ি কুঁড়ি ভালবাসা
দিয়েছিলাম তোমায় ?
বলেছিলে উচ্ছ্বল ঝর্ণা আমি
ডাগর দুচোখে প্লাবনের পূর্বাভাস !
বিহ্বল আমি ,চঞ্চল আমি পরম
পাওয়া য় অনাবিল অবকাশ
চলতি জীবন -- বহমান নদী ----
থমকে দাঁড়ায় ভাঁটার টানে ,
পড়ন্ত ভালবাসার রঙ ফিকে হয় --
তোমার ও মন বাঁক নিয়েছে
কখন অন্য -মনে !
বিষাদ মেঘে আকাশ ছাও য়া --
দুমড়ানো মন , মোচড়া ন বুক
ডুকরে কান্না চুপিচুপি ,
আমি সুলগ্না  --------
লিখেই চলি - অবক্ষয়ের দিনলিপি !

অতীত ~ চন্দ্রাণী বসু


পোড়া নিকোটিনের গন্ধে,
আজও তো ঘুম ভাঙে রোজ,
তবু নেশা লাগে কই?
দামী লিপস্টিকে সেজে,
আজও ঠোঁট লাল হয়,
তবু পোড়া মন ফ্যাকাসেই রই।
টিপ গুলো ঝরে যায় ,
ঝকঝকে আয়নায় মুখ দেখি ,
কপালে টিপের দাগ এখনো মোছেনি।
তোর কাছ থেকে চলে
এসেছি তো সেই কবে....
তোকে ছেড়ে আসা আজও হয়নি

আলগা মুঠির ফাঁকে ~ আমি পিয়ালী

শীত শেষ হতে আরও কিছু বাকি , শেষ রাতে কোকিল ডাকে দেখি পুলকভরে - মধ্যবসন্তের ভাবনা গুলো ফিরিয়ে এনে ! বাড়ির হাতার মধ্যে বোগেনভালিয়ার ডাল গুলো তে এখন আর পাতা দেখা যায়না ! এখন ওরা ঋতুমতী , ফল হবে ওদের ! তোমার মনে আছে আমাদের পাখি পোষার সেই মিথ্যে শখের দিনে আমরা কেমন শাল বনে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াতাম ! মহুয়ার মিষ্টি গন্ধ বাতাসে ভাসতো আর পথের ধারে ফুটে থাকা পুটুস ঝোপে তখন কত রঙ ! 
ছত্তিশগড় বেড়াতে এসে এ অঞ্চলের জঙ্গল পাহাড় কে ভালোবেসে তুমি এমনই এক পাখিডাকা ভোরে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে এখানেই থাকবে , বেয়ারা জেদ তোমার - কেয়ারটেকার কে দিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে কিনে ফেললে দুকামরার এই আশিয়ানা ! জানো এখন এখানে গত গ্রীষ্মে শুকনো পাতায় আগুন লেগে বাড়ির একাংশ পুড়ে গেছে - তোমার কলকাতার সাতাশ তলায় সে গন্ধ পৌঁছায়নি ! কোথা থেকে ঠিকানা নিয়ে ওই বুড়ো ঠিক খুঁজে নিয়েছে আমায় - জোর করে নিয়ে এসেছে এখানে ! আমি তার ঝিমধরা লাল চোখ কে অগ্রাহ্য করতে পারিনি, তোমাকে জানাইনি! কেনই বা জানাবো -ক্ষনজন্মা বর্ষার মত আমাদের ভালোবাসার ইতিদিনে এ বাড়ি তুমি বেঁচে দিতে চেয়েছিলে , মুক্তি চেয়েছিলে পথের পাশে ফুটে থাকা জারহুলের হালকা বেগুনী স্মৃতি আভা থেকে ! 
তোমার অনেক অভিযোগ ছিলো বিষাদ আমার বিলাসিতা বলে ! সে অভিমান ছুটে গেছে কবে ! আমারও তরী কূল পেয়েছে অন্য বিশ্বাসে - কিন্তু কি এক দ্রবণের উৎপল উৎপাতে আমিও আজ চোখ দুটো কচলাচ্ছি বারবার ! 
কোথা থেকে লোক জোগাড় করে এনেছে বুড়ো! কোনো রকমে রাত্রিবাসের যোগ্য করে সারিয়ে তুলছে একটা ঘর, আর আমি বাড়ির পিছনে তির তির করে বয়ে চলা সেই শুকনো নালা টার ধারে দাঁড়িয়ে অভিমান এর সংজ্ঞা টা আরও একবার ঝালিয়ে নিচ্ছি ! মনে আছে তোমার শীত রাতের শেষ ভোরে দাঁতাল বুনো শুয়োর গুলো এ নালায় জল খেতে আসত , ওদের আওয়াজে বিরক্ত তুমি আমার বুকে মাথাটা গুঁজে দিতে এসে আচমকা ঘুম ভাঙ্গা ভোরে! আজ দেখছি ছুঁয়ে - সব একই রকম আছে যেখানে যা কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে গেছিলাম আমরা ! জানি,খুব জানি তুমি এলে এবার আর ফিরতে পারতে না , তাইতো জানাই নি ! যে মুঠি একদিন ঘৃণাভরে আলগা করে দিয়েছিলে সেই মুঠির মধ্যেই তোমার ডেনিম শার্টের তিন নম্বর বোতাম টা সেদিন ধরে রাখা ছিলো - আজ মনে হলো মুক্তি হোক তার পরম স্বস্তিতে , অবুঝঅভিমানে ! 
মন বলছে . . . 
"প্রেমেরে বাড়াতে গিয়ে মিশাব না ফাঁকি
সীমারে মানিয়া তার মর্যাদা রাখি 
যা পেয়েছি সেই মোর অক্ষয় ধন 
যা পাইনি , বড় সেই নয় "

একটু উষ্ণতার জন্য ~ চঞ্চল নায়েক

ঘুম জড়ানো শরীরে তোমার চুম্বন স্বাদ অমৃত !
লেগে আছে এই সজাগ শরীরে আজও...
হৃদয়ের স্পন্দনে এখনও সুখময় অনুভূতি !
জিভের পেলবতায় শিরশির করে আমার হৃদপিন্ডটা
তুমি আমায় অকাল-ঘাম দিয়েছো...
শীতের অভিমান হোক !
আমি পরিযায়ী হয়ে উষ্ণতা নিতে যাবো আবার
উত্তুরে বাতাসের কানে বলে যাব, তুমি লজ্জা পেয়োনা...

আমি ও আমার কামদুনি ~ প্রবীর শর্মা

খবরের কাগজে হেডলাইন
টিভির পর্দায় ব্রেকিং নিউজ
তোমরাই বা বাদ যাবে কেন
আমায় নিয়ে হোক না তোমাদের
মুখরোচক কাব্য, গল্প বা উপন্যাস
আর কামদুনি থাক কামদুনিতেই.

স্মৃতির আসমান সাঁতারু অভিমান ~ লুতফুল হোসেন

বাঁ বুকের পকেট থেকে
ভাঁজ খুলে চিঠিটাকে মেলতেই
ঝুপঝাপ লাফিয়ে বেরুলো
ডজন তিনেক নীল রঙের শব্দ।
ঠিক হাত ফস্কে ছিটকে পড়া
ক’খানা ছুটন্ত মুড়ি-মুড়কির মতো।
সেই ছত্রিশ শব্দে গভীর বোনা ছিল
বলা না বলা প্রায় শতেক অভিযোগ
অকস্মাৎ তিরিশ বছর পর
কোন মলাটের ভেতর থেকে
পুরোনো সেই চিঠিটা আজ
বেরিয়ে এলো হঠাৎ আবার।
তাকে ঘিরেই ভাবনা চিন্তা
একঝাঁক চঞ্চল পাখির মতোন
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে করোটিতে
উড়তে শুরু করলো দুর্বার।
চারভাঁজের ওই কাগজখানা
থাকে অমনই, হাতে ধরা।
বুকের ভিতর বাতাস জুড়ে
বাজতে থাকে হাজার কথা।
পিয়ানো আর সাক্সোফোনে
মান ভাঙানো স্মৃতির পরম্পরা।
অনন্ত সময় ধরে থাকি, ছুঁয়ে থাকি,
কোষে কোষে নৃত্যরত স্মুতির জোনাকী।
ভুল করেও ভাঁজ খুলিনা চিঠিখানার,
অভিমান টুপ টাপ ঝরে যদি আবার !

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...