শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৬

ভিনদেশী প্রেম~ জয়দীপ বসু

ছোঁয়া ছোঁয়া ভালবাসা 
বেগুনী ক্যানভাস 


কুয়াশায় মেঘময়
অ্যান্টনি নিকোলাস


যবে চাঁদ মেঘ মাখে
জোসনায় আদুরে 


এদেশের মেম ,অভিমানে
চলে দূরে ---- বহুদূরে

তোমায় লেখা শেষ চিঠি ~ রিক্তা চক্রবর্তী

রাহুল ,
এ চিঠি যখন পৌঁছবে তোমার কাছে
তখন আমি ধূসর রূপকথা মোড়া 
উদ্ভ্রান্ত পৃথিবীর শেষ বেডে শুয়ে
ভীষণ প্রিয় শীতে এখন রক্তের গন্ধ
ক্যানভাস জুড়ে এখন পথ শিশুদের কান্না

আচ্ছা রাহুল ,
অতীত কি কখনও বর্তমান হয়না ?
তোমাকে ছেড়ে থাকি এখন
প্রতিটি দিন আর রাত
না বলা কথাগুলো কবেই যে
নামহীন ছোটগল্প হয়ে গেছে !
এখন লাটাই গোটানোর পালা


তুমি চেয়েছিলে আয়ু বাড়ুক
আর আমি
জন্মসূত্রে মৃত্যুসূত্রে আবার না ফেরার
প্রতিশ্রুতি নিজের কাছে নিজেই বহন করি
রাহুল ,
আমি তোমাকে নয় , ভালবেসেছি জীবন কে ।

সারাকাল বৃষ্টি ~ সুনীতি দেবনাথ

পরিত্যক্ত বিকেলে এক ঝাঁক বৃষ্টি
হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পড়লো এসে।
সাত তাড়াতাড়ি গোধূলি রঙবাহার
পাহাড়ি আলখাল্লায় লুকিয়ে পড়লো,
পাহাড় জবুথবু যেন জানে না কিছু।

এবার বৃষ্টি কেবল বৃষ্টি ঝমাঝম —
বঙ্গোপসাগরী অকাল বায়ুর ডানা
বৃষ্টি ঝরায় মত্ত উল্লাসে অবিরাম।

একাকী নির্জনে এক দুঃখী কণ্ঠস্বর
কান্না ঝরায় মাতাল বৃষ্টির সঙ্গমে,
চুল্লির জ্বলন্ত কার্বন কখন শেষ
ভিজে যায় ঐতিহাসিক আলমারিটা,
জবজবে স্মৃতিরা সব হারিয়ে যায়
গরান সেগুন শালের ঘন ছায়ায় —

আজ বৃষ্টি শুধু ঐকান্তিকেই কাঁদায়।
কলরব মুখর জনপদ নিঃস্তব্ধ
আজ শুধু হঠাৎ বৃষ্টির আন্দোলন,
রক্তের রক্তিম আবহে নিয়েই যায়।

বহু সাম্প্রদায়িক জন জনপদে ছিল
মিলেমিশে সুগন্ধিত মশলার মত।
বিভ্রান্ত চোখ দেখে আজ রক্তিম ধারা
এ বৃষ্টি তো বৃষ্টি নয় শোণিত বর্ষণ।
আর একা এক ঘরে একা এক লোক
দাঙ্গায় নিহত স্বজন নিয়ে একেলা
বাকি দিনগুলি গুনে গুনে হয়রান। 

একদিন এই ঘর বসত ভরন্ত
গমগমে ছিল, সুখ দুঃখ হাসি কান্না
নানা কিছু গায়ে গা মিশিয়ে থেকেছিলো,
বিবাদ রহস্য প্রেম এতো সব ছিলো —
আজ আর কোন কিছু নেই শূন্য সব,
সময়ের কঠোর ডানায় চেপে আসে
আগুন বৃষ্টির স্রোতের মতন আসে
হালকা ডানায় সব কিছু উড়ে গেলো
ফেরেনি তো আর কোনদিন কোনকালে।

নিঃশব্দতায় আছে নিঃসঙ্গ প্রাণ এক
শব্দহীনতায় পরিপূর্ণ বাড়ি এক
তার মাঝখানে পুরোনো একটি প্রাণ।
শব্দহীনতাও যে মুখর হতে পারে
জানা ছিলো না তো, সেই শুধু জানে
বিশ্রস্ত বেহালার বিশ্রম্ভালাপে শোক।

আজ ঘরের ভেতরে আর এক ঘর
এই বৃষ্টির দাপটে ঠাণ্ডা হয়ে গেলো,
বৃষ্টির ঝাপটা আনে স্মৃতির দঙ্গল
রুদ্ধ দরজায় কড়া নেড়ে ক্লান্ত ওরা
প্রাঙ্গণে নেমে শুয়ে পড়ে ঝুম বর্ষণে
মৃত সৈনিকের মত সারিবদ্ধ হয়ে।

শুধু সারাকাল বৃষ্টিধারা ঝুম ঝুম
বহুকাল জমে থাকা বহু মানুষের
অশ্রু ধারার মতন ঝরে ঝরে কাঁদে।
তাই ভেতর ঘরে একা মানুষেরই
একাকী বিষণ্ণ উৎসবে শেষ কান্নায়
শেষ মোমবাতিটিও পুড়ে নিভে যায়।

গল্প বলি শোন~ আমি পিয়ালী


কোন এক মৃত আলোর বিকেলে পৌষের ঘ্রাণে উতল হাওয়ার দল উড়ো চিঠি পাঠিয়েছে ইউক্যলিপটাসের বাড়ী . .
ইউক্যলিপের না ঝরে পড়া পাতাগুলো ওদের আসার খবর শুনে কলস্বরে বলে উঠে :
এই তোরা গল্প শুনবি ? শুনবি তো বল্
আমি আমার কুলপিতে রোদ জমিয়ে রেখেছি অনেক, সোনা-রোদ !
এলোচুলে শাকচুন্নিটা রোজ এসে দাঁড়ায় ওটা চুরি করে পালাবে বলে ! কিন্তু আমি তোদের জন্য সেই সুখীরোদ আগলে বসে আছি কতকাল ! সে খেয়াল আছে তোদের ?
ওরে রে রে রে রে . রে . রে . . . . . .
আরে ! এসেছিস ! আয় আয়,
কিন্তু দ্যাখনা তোরা দেরী করছিস দেখে রোদ গুলো সব বেচে  দিলাম এইমাত্র শূন্য মেঘেদের কাছে . . .
মন খারাপ করিস না ! ! ! !
তার চেয়ে তোদের নদীর গল্প বলি চল্
ছলাত্ ছল ছলাত্ ছল . . . . . . . .
সে এক কিশোরী নদী ঘুঙুর পায়ে লবণের মরুভূমি বুকে ছুটে চলেছে কবে থেকে, তাকে জিগ্যেস করি - কিগো কন্যে বয়েস কত তোমার ?
" আলসে নদী বিবাগ মানে
ঠিক যেনো ওই উদাস মেয়ে
দুঃখগুলি পত্রাবলি
উড়ছে রাঙা আকাশ ছেয়ে . . "
দেখি লবণ বিন্দু গুলো ভরা আছে তার ক্ষীণ স্তব্ধতাতে !
সেকি ! নদীর গল্প ভালো লাগেনি ?
তবে চল্ রাজ্পুত্তুরের গল্প বলি - রাজকন্যা যার রুপমতী
হা হা হা ! এবার খুশী ?
" কিন্তু রাজা রানীর গল্পে বড়ই একলা হবার ধ্বস
প্রজাপালক রাজার মন অল্প কথায় বশ
তবুও দেখি নিকষ আঁধার ওদের অলংকারে
কথায় কথায় লড়াই করে ওরা আড়ে ঢাড়ে "
হাওয়ারা এখন বেজায় খুশি," বলে- তারপরে, তারপরে ?
আমি তখন গল্প হারাই অথৈ বালির চড়ে"
ততক্ষণে . . .
" মুখ ব্যাজারে হাওয়ারা সব ফিরতি ঘরের পথে
সময় দেখি হাত রেখেছে ইউক্যলিপের হাতে "
বলছে সময় -
"থামছ কেন? বহন করো ক্ষত
আমি তোমায় পাঠিয়ে যাব ইশারা অবিরত
আমিই শুধু থাকব সাথে আর যাকিছু বাসি
ইউক্যালিপটা বোকা সত্যি , আড়াল করে হাসি"

আগামীর একদিন ~ মিঠুন চক্রবর্তী

দ্যাখো একদিন ঠিক নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়াবো । 
দ্যাখো একদিন ঠিক ধুলোয় মাথা ছোঁয়াবো, 
চাইবো অরণ্যের আশীর্ব্বাদ। 
একদিন তোমার রক্তে আঙ্গুল ছুঁইয়ে খুঁজে পাবো
আমার পিতার স্নেহ ।
একদিন শান্তিগড়ের মাঠে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়াবো।
একদিন দুপুরে ইতিহাস পড়বো ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে ।
একদিন, কোন একদিন, কোন এক শতাব্দীর একদিন
শিশিরে ভিজতে ভিজতে ঘুমিয়ে পড়বো ক্লান্তিহীন ,
সপ্তর্ষিমণ্ডলকে সাক্ষী রেখে কোন এক গোছানো সন্ধ্যায়।

হৃদয়াবেগ ~ চঞ্চল নায়েক

অসমাপ্ত সুখের ছায়ারা শুধু মায়া !
মায়া বুনে চলেছি স্মৃতির বাগিচায়...
বাগিচা আজ প্রিয়া বিরহে শুষ্কপ্রায় !
শুষ্ক কানন জুড়ে অলীক সুখরাশি...

বিবর্ন নিরাশার পাতায় লিখি শোক !
শোকাতুর প্রেমকথা হয়ে যায় গান...
গানের অন্তরা,সঞ্চারী জুড়ে প্রেয়সী !
প্রেয়সীর লীলারূপ আজও তরতাজা...
অমলিন সেই স্মৃতি-বৃক্ষে ঢালি জল !
:
জলজ বীথীকাননে মালী সেজে আছি ...
আছি বেঁচে প্রেয়সীর কাল্পনিক তাপে !
তপ্ত আবেগে মেশাই রামধনু স্বপ্ন...
স্বপ্নিল রাত আসে অজস্র রঙ নিয়ে...
প্রেমাগুনে পুড়ছি শোকের ঘি জ্বালিয়ে !

এসো সমারোহে ~ প্রণব বসুরায়

আমাদের সব কথা গোপনেই রাখি
স্থল, জল, অন্তরীক্ষে ছড়িয়ে দিয়েছি,
আমাদের গাল ও কপাল ছুঁয়ে যায়
ভাবনানগর থেকে সখেরবাজারে--
দুলুনি কেদারা থেকে কিচেন সমীপে
:
আমি চাই উলঙ্গ উত্তাপ
তুমি সমারোহ করে এসো

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...