মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

" আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে " 

দেখতে দেখতে আমরা পেরিয়ে এলাম নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসটিও। দেনা পাওনার হিসেব নিকেশ নিয়ে বসলে , প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি দুয়ের বোঝাই নিক্তি মেপে ওজন করা যাবে , ... অথচ বৃহত্তর জীবনবোধের প্রেক্ষাপটে যদি আসা আর যাওয়ার এই ছবিটি তুলে ধরা যায় , সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের কথাই প্রথম মনে পড়ে ।

এ মাসেই আমরা পেরিয়ে এলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটিও ,  ১৯৫২ সালের এই দিন , বাংলাকে ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে আজও চিহ্নিত। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। ... ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া , হাজার বীর শহিদদের স্মরণ করে একবার ফিরে দেখা যাক বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসটিকে ... কারণ গদ্যই আমাদের ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গণ্য । ১৫৫৫ সালে অহোমরাজকে রাজা নরনারায়ণ মল্লদেবের লেখা চিঠিটিই কিন্তু বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন হিসেবে আজও চিহ্নিত ।

তথাপি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১৮৫২ সালে সালটিই বিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে , ...ঐ বছরই প্রকাশিত হয়   হানা ক্যাথরিন মুলেনস  রচিত 'ফুলমণি ও করুণার বৃত্তান্ত'  , যা বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত । পরপরই প্রকাশিত হয় , বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল , লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র । 

আর এখন সময়ের বহমানতায় আমরা শূন্য দশকের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছি । সময়ের ব্যবধানে - শতকের ব্যবধানে ভাষার বিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ার মতো । 

বাংলা ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে প্রকাশিত হল , মুঠো ভরা রোদ্দুর 'র ফেব্রুয়ারী সংখ্যা । মাতৃভাষাকে সযত্নে পরিচর্যার পাশাপাশি একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন , অনন্য স্বাদে সেজে ওঠা এই বিশেষ সংখ্যাটিতে , আশা রাখছি নিরাশ হবেন না ।
ভাল থাকুন নিরন্তর , লেখায় থাকুন ।

শুভেচ্ছান্তে ,
পিয়ালী বসু





SMOULDERING SOUL ------ Siddhartha Mukherjee

AH! GOT HURT....
THE WAY YOU USED THEE....
THY ASK, THOUGH FULFILLED BY ME....
THE SEARCH OF YOUR ORGASM PLEASURE, CONTINUED....
IN THE QUEST OF RELINQUISHED ETERNITY...
YOU FLEE....
WHY ON EARTH YOU MEASURED, THE FATHOM DEPTH OF THEE MIND???
THE DARKEST PART, WAS APART ALL.....
CLAIMING THE DEATH OF SOULS' HEART.....
SILENTLY.... SMOULDERING

সাউন্ড হোল্, প্রযত্নে, স্প্যানিশ গীটার ----- দূর্বা মুখার্জ্জী

হাত বাড়িয়েছিলাম জানো?
যতবার সেই স্বপ্ন দেখেছি-
হাত বাড়াতে ভুল হয়নি -
শ্রীকান্তকে ছুঁতে পারিনি কোনদিন।
স্পষ্ট দেখতাম ওর জুলফি বেয়ে ঝরছে ঘাম।
ওর স্প্যানিশ গীটারের প্রতিটা তার।
ওর ক্ষয়ে যাওয়া নখ -
আর উষ্কোখুষ্কো চুল।
দেখতে দেখতে গীটারের সাউন্ড হোল্
গিলে নিত সব - সেই শাব্দিক গর্তে
হারিয়ে যেত সুর, গান আর গোটা শ্রীকান্ত।
আমার হাতে ভরা থাকত ছাই -
প্রতি রাতে তাতে অশ্রু ঘাম রক্ত মিশিয়ে
একটি দুটি বর্ণমালার জন্ম দিতাম।
একদিন পুরো ঠিকানা লেখা হল ঘাম পোড়া ছাইয়ে।
দরজা খুলে দেখি শ্রীকান্ত মন দিয়ে বাজাচ্ছে।
সময় থমকে আছে ওর ঘরে।
দেওয়াল জুড়ে কিছু চেনা অচেনা ছায়া নাচছে।
হাসছে, কাঁদছে, ভালোবাসছে।
ডাকলাম, - 'শ্রী---'
সাড়া নেই। শুধু স্প্যানিশের ঝংকার।
মারা যায়নি শ্রী। কিন্তু আর জন্মাবে না সে কোনদিন।
বাস্তুরীতি থেমে গেছে তাই আমারও ফেরা হল না কখনও।
আজ থেকে ঠিকানা আমার-
সাউন্ড হোল্, প্রযত্নে, স্প্যানিশ গীটার 

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

খোলা চিঠি ---- সুদীপ্তা নাথ

তোমায় ক্ষমা করেছি বাবা।কারণ না করার আর কোনো কারণ নেই! যে মানুষটা সারা দেহে রোগ,ব্যাধি আর কোষে কোষে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে চলে গেছে হঠাৎ,তাকে আর যাই হোক অন্তত ঘৃণা করার আর কিছু থাকেনা।
আমার জীবনের ২৭টা বছর আমি যুদ্ধের প্রস্তুতি তে কাটিয়েছি।ভেবেছি ফের যখন মোলাকাত হবে তখন যেন যোগ্য জবাব একে একে ফিরিয়ে দিতে পারি।তাই মনে মনে যুদ্ধক্ষেত্র রচনা করে একে একে ঢাল,তরবারি সাজিয়েছি আর আগুনে ঘৃতাহুতির মতো আরো আরো ঘৃণা জমিয়েছিলাম।বুকের ভেতর অনেক আগুন পুষে এভাবেই চলছিলো বেশ তারপর হঠাৎ একদিন কর্মস্থল থেকে ফিরে শুনলাম - "তুমি আর নেই।বাথরুমে স্ট্রোক হয়ে নাকি পড়ে গিয়েছিলে।তারপর আর ওঠোনি।"
না আমি কাঁদিনি।কারণ বাবার জন্যও যে কান্না আসে তা তো কখনো জানতামই না।তবে সেদিন অদ্ভুত কিছু একটা হয়েছিলো ভিতরে।অজানা একটা রাগ হয়েছিলো খুব! কেন এমন হবে! আমার এতোকালের সাজানো যুদ্ধক্ষেত্র, আর এতো দিনকার যুদ্ধের প্রস্তুতি! তার কি হবে!? কেন এভাবে ঘেটে দেওয়া হল আমার সাজানো পরিকল্পনা!? এভাবে হঠাৎ জীবন থেকে quit করে যুদ্ধ বানচালের মানে কি!? এটা তো জিতে যাওয়া এক প্রকার! এ যুদ্ধ টা তো আমার জেতার কথা ছিলো। কিন্তু সে সুযোগও তুমি কেড়ে নিলে এইভাবে !?
তুমি চলে গেছো আজ এক বছর হল।ঘটনার আকস্মিকতায় সময়ের প্রলেপ পড়েছে যত বুঝেছি- আসলে কিছু যুদ্ধের মীমাংসা হয় না।ক্ষমাই তার একমাত্র যোগ্য জবাব।আমি তোমায় ভালোবাসতে পারিনি হয়তো কিন্তু তোমার প্রতি আমার আর কোনো ক্ষোভ নেই।দীর্ঘ না পাওয়ার ফর্দ দিয়ে তোমায় দায়ী করি না আর।কারণ সেগুলোই তো আমার এগিয়ে চলার আগুন হয়েছিলো।তোমার সাথে যুদ্ধ জিতবো বলে মরিয়া হয়ে জীবনসমুদ্রে সাঁতরাতে সাঁতরাতে বুঝতেই পারিনি কখন জীবনের আরো অনেকগুলো যুদ্ধে আসলে আমি জিতে যাচ্ছিলাম।
ভাগ্যিস তুমি এতোটা কষ্ট দিয়েছিলে। ভাগ্যিস তুমি একটুও ভালোবাসোনি।তাই তো এতোটা রাস্তা একাই পেরোতে পারলাম। তাই তো আসলেই জিতে গেছি।
আজ তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো বাবা।

ইতি,
তোমার মেয়ে

বিদগ্ধ দহন ---- দীপঙ্কর বেরা

দুরত্ব শয্যায় কাছের মানুষ
একা নীলঘুর্ণি-র আলোছায়া
ডিঙানো রাজত্বে মেঘ-পাহাড় 
আমি আমি চিৎকারের মায়া

জলছবি আঁকা দমকা হাওয়া
দহন রাতের বিদগ্ধ আকার
কাল পেরিয়ে কালের কথায়
যুগ মানুষের হাহাকার।

পার্বণ স্রোত নিজস্ব সংলাপে
তথ্যের সূত্রে আনত জিজ্ঞাসা
লিখে রাখা সেই একক
সুচিত্র বরণ দূরন্ত আশা

মুঠোবন্দী কিছু মধুক্ষন ----- শমিতা চক্রবর্তী

বহতা নদীর বুক থেকে কিছু মুহূর্ত 
মুঠি ভরে নিলাম তুলে 

বাসন্তী রঙা শাড়ির আঁচলে বাঁধা 
সদ্য যৌবনার কিছু খুশী রঙ --
বুকের মধ্যে হাজার প্রজাপতির 
পাখনা মেলা সেই শুভক্ষণ ---
যেখানে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়েই 
ঘোর লেগেছিল মনে 

গম -রঙা রোদ্দুর গায়ে জড়িয়ে 
সুখী আলপথ ধরে চলতে চলতে 
যখন দুটি ' ভালবাসার ঢেউ ' এসে 
আছড়ে পড়েছিল দুটি ওষ্ঠ জুড়ে ---
কিছু কম্পন কিছু শিহরণ লাগা 
সেই মধুক্ষন ------
রেখেছি আজও মুঠো ভরে !

বাঙময় মুহূর্ত ----- মুনমুন মুখার্জী

।।১।।
অপারেশন থিয়েটারের চতুর্দিকে শ্বেতশুভ্র রঙ কিছুটা বিমর্ষ করে তোলে রেণুকাকে। মেরুদণ্ডে অবিমিশ্র অনুভূতির হিম প্রবাহ। ন’মাসের পরিচিত গাইনোকোলজিস্ট মাস্ক পরার আগে স্মিত হাসিতে আশ্বাস দেয়, “ভয় কি? মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনিট। চোখ খুলতেই মাতৃ্ত্বের সেই নৈসর্গিক মুহূর্তের আস্বাদ তোমার অপেক্ষায়।” 
জ্ঞান ফিরতেই ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে অন্ধকার। আধো জাগরণে আপাদমস্তক সাদা তোয়ালে জড়ানো একটি জ্যান্ত পুতুল হাতে দিয়ে পাশের নার্সটি বলে, “মেয়ে হয়েছে, মিষ্টি খাওয়াতে হবে কিন্তু!”
মেয়ে কোলে রেণুকার দুচোখে তখন অঝোর বর্ষাধারা।


।।২।।
চার বছরের ব্যবধানে আবার সেই অপারেশন থিয়েটার। মেরুদন্ডে আবার সেই হিম প্রবাহ। সেই স্মিতহাস্য গাইনোকোলজিস্ট। সব একইরকম। শুধু প্রযুক্তি পাল্টে গেছে। বুকের ওপর থেকে গাঢ় রঙের একটি পর্দা উলম্ব ভাবে রেণুকার শরীরকে এবার দু’ভাগে ভাগ করেছে। শরীরের নীচের অংশ অবশ, পাথরের মত ভারী। হঠাৎ অনেক দূর থেকে ভেসে আসা শিশুর কান্না ওর মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষকে সজাগ করে তোলে। কান্নার আওয়াজ যতই স্পষ্টতর হতে থাকে, অশ্রুজলে রেণুকার দৃষ্টি ততটাই ঝাপসা হয়ে আসে। 
-“ছেলে হয়েছে তোমার!” দায়িত্বরত পেডিয়াট্রিকের দু'হাতে আবার এক দেবশিশু; এখনও তার শরীরে লেগে আছে রেণুকারই রূধীর।


।।৩।। 
বত্রিশ বছর পর আবার অপারেশন থিয়েটার। রোহিনী নয়, এবার ওর পুত্রবধূ অরণ্যা। আবাহনের আনন্দ নয়, এবার পরিবেশে বিসর্জনের গাম্ভীর্য। ছেলে এখন অন্য দায়িত্ব নিতে অপারগ। পেশাগত উন্নতি তার আপাতঃ মূল লক্ষ্য। 
মাত্র ন’সপ্তাহ্! ডাক্তার বলেছিল, টার্মিনেশন যত দ্রুত হবে ততই নিরাপদ। অরণ্যার সম্মতিতেই সব হয়েছে। তবুও ও সব কিছুতেই ভগ্নোৎসাহ। পুত্রবধূর নির্জীব দু’হাত নিজের হাতে নিয়ে নিশ্চুপ রোহিনী।
নশ্বর পৃথিবীর অবিনশ্বর কিছু মূহুর্তে মাতৃ্ত্বের অনুভূতি আর স্পর্শের বাঙময়তার কাছে শব্দ প্রয়োজনীয়তা হারায়।

সম্পাদিকার ডেস্ক থেকে

উৎসবের আলোড়ন কিছুটা স্তিমিত , তবুও মনের অলিন্দে হৈমন্তী স্বপ্ন । বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষ মুখে , উৎসব তিথি এখন অন্তিম লগ্ন যাপনে ব...